দারোয়ানের মেয়ে মাহমুদা এখন তানিশা খানঁ! ঘাতক কে ?

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর আলী আকবরের ৩তলা বিশিষ্ট ভবনের নীচতলা থেকে উদ্ধারের পর লাশের সাথে পাওয়া ফোন নম্বরের মাধ্যমেই তার পরিচয় সনাক্ত হয়,এমনটিই জানা গেছে। তবে তার ঘাতক কে কিংবা ফ্ল্যাটে কার সাথে বসবাস করে আসছিল তা সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারনা  ২/৩দিন আগে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। 

বাড়ীর মালিকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়,স্বামী-স্ত্রী পরিচয়েই তারা ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিল। আর পরিবারের সদস্যরা জানায়,এ ফ্ল্যাটটি যে ভাড়া নিয়েছিল তা তারা ঘূর্নাক্ষরে ও জানতেন না। কারন মাহমুদা বাইরে থাকতো সিনেমার শ্যুটিংয়ের কথা বলে। তার সন্তান ৪ বছরের জারাকেও নানা-নানির কাছেই রেখে যেতো।

 

কে এই মাহমুদা  ওরফে তানিশা খান ?

নারায়নগঞ্জ দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার ডায়বেটিকস সেন্টারের দারোয়ান আলী আক্কাছের মেয়ে মাহমুদা । শহরের ফ্যাশন হাউস টপটেনের সেলস গার্ল হিসাবেই কাজ করে আসছিল। পাশাপাশি ফ্যশনাবেল চলাফেরাসহ সিনেমা-নাটকে অভিনয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে মাহমুদা। সেই সিনেমা জগতের নেশায় বুঁদ হলেও বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে চলাফেরায় অভ্যস্ত হয়ে উঠা মাহমুদা হয়ে যায় তানিশা খান। পরিবারের সদস্যরা তার এ নাম না জানলেও বাহিরে ছিল তানিশা খান। এক পর্যায়ে দেওয়ান রাজু পরিচালিত মর্ডান মেয়ে নামে এক শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের সূত্র পাওয়া গেছে।

মাহমুদার পরিবার জানায়, সন্তান জারা জন্মের পর পরই স্বামী হাবিবের সাথে মাহমুদার বিচ্ছেদ হয়েছিলো একমাত্র সন্তান জারা (৪) এর জন্মের পর পরই । এরপর নানা আক্কাস ও নানী সুফিয়ার সাথেই বড় হয়ে উঠছে শিশু কন্যা জারা । স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পরই মাহমুদা বেপরোয়া হয়ে উঠে।

উচ্চাবিলাসী মাহমুদ কখনো টপটেনে আবার কখনো অনেকদিনের জন্য সুটিংয়ের কথা বলে বাড়ির বাইরে থাকতো । বাবা আক্কাস আলী মা সুফিয়া বেগম কিংবা পরিবারের কেউ জানতো না মাহমুদা গোগনগেরর আল আমিন নগরে বাসা ভাড়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করছে।

 

নানা নানির কাছ থেকে মাহমুদার মৃত্যুর কথা শুনে এখন শিশু জারা খুজে বেড়াচ্ছে তার মাকে। অবুঝ জারা বারে বারে নানা নানির কাছে বায়না ধরছে মায়ের কাছে যাবার। মৃত্যু কি সে এখনো বুজে না। ফলে তার বায়নাকে ভুলিয়ে রাখছে স্বজনরা।

 

উচ্চাবিলাসী মাহমুদার কিছু ছবি প্রকাশ করা হলো হত্যা তদন্তে পুলিশের সহায়তার জন্য। অনেক বন্ধুদের সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর অসংখ্য চিত্র পাওয়া গেছে । হয়তো এদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে মাহমুদার হত্যাকারী । সময়ই বলে দেবে কে মাহমুদার হত্যাকারী।

 

 

 

 

                                                                                        মাহমুদার ৪ বছরের মেয়ে জারা