জেএমবির ২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি,র‌্যাব-১১(আজকের নারায়নগঞ্জ):  রূপগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির ২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। এসময় তাঁদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপু (৪৮) ও মিজানুর রহমান (৩১)। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সোমবার (৩০ জুলাই) র‌্যাব-১১ কর্তৃক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থানাধীন যাত্রামুড়া ব্রীজের পার্শ্বে অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানায় ২০১৭ সালের ১১ই জুলাইয়ে দায়েরকৃত মামলা নং-২৭ এর এজাহারের আসামী আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপু (৪৮) ও মিজানুর রহমান (৩১) কে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-১১ এর দেয়া তথ্যানুসারে জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপু (৪৮) গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার রতন কান্দি পোৗরসভার নুন্দাহ গ্রামে। বর্তমানে অপু ঢাকার লালবাগ এলাকার কে,বি,রুদ্র রোডে বাসিন্দা ছিল । সে ১৯৮৫ সালে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশ করে। অপু শেয়ার মার্কেটের সাথে জড়িত।

আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপু ২০০৮ সালে জসিম উদ্দিন রাহমানির হাতেম বাগ মসজিদে যাতায়াত করত। এই সময়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির বিভিন্ন বই, ওয়াজ, লেকচার শুনে উগ্রবাদিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই সময় জেএমবির গ্রেফতাকৃত শুরা সদস্য তাসলিমের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে।

তাসলিমের মাধ্যমে র‌্যাব-১১ কর্তৃক ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় গ্রেফতারকৃত জেএমবির সদস্য ইমরান আহম্মেদ, সাদেক, নাফিজ, আঃ রহমানওরফে রুবেল, সাগর, মাওলানা ইসহাক, শায়েখ আরিফ সহ আরও অনেক সদস্যের সাথে আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপু’র পরিচয় হয়। সে মূলত পূরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বর্তমানে জেএমবির দাওয়াতি শাখার সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলো। তার মাধ্যমে বেশ কয়েকজন সদস্য জেএমবিতে যোগদান করে। তার নামে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় জঙ্গি সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে।

অপর আসামী মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ঢাকা ডেমরা থানার সারুলিয়া পৌরসভার ডগাইর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে বাইতুন নুর জামে মসজিদ হোমনা, কুমিল্লায় ইমাম হিসেবে নিয়োজিত আছে।

সে ২০০১ সালে গেন্ডারিয়া এম শফিউল্লাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফজ সম্পন্ন করে। ২০১১ সালে জামিয়া ইসলামিয়া দারুলউলুম মাদ্রাসা থেকে দাওরা সম্পন্ন করে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বগুড়া পৌরসভা পার্ক মসজিদে ইমামতি করেছিলেন। ঐ সময় তার মসজিদে শিহাব নামে জনৈক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। শিহাব তাকে জেএমবির দাওয়াত দেয় এবং সে দাওয়াত গ্রহন করে জেএমবিতে যোগদান করে। এরপর থেকে সে জেএমবির দাওয়াতি কাজে নিজেকে যুক্ত হয়।

তাঁর মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ, সিয়াম, এহসানসহ কয়েকজন সদস্য জেএমবিতে যোগদান করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে মিজান ঢাকায় আসে এবং ডেমরার আয়েশা মসজিদে ইমামতি শুরু করে । এ সময় গ্রেফতারকৃত জেএমবির আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপুর সাথে মিজানের পরিচয় হয়।

ডেমরা নারায়ণগঞ্জ এলাকায় জেএমবির কার্যক্রম কিভাবে বাড়ানো যায় এই নিয়ে প্রায়ই আশরাফুল ইসলাম ওরফে অপুসহ আরো অন্যান্যদের সাথে তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হত। নারায়ণগঞ্জে আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে সে কুমিল্লার হোমনায় চলে যায় এবং বাইতুন নুর জামে মসজিদ হোমনা, কুমিল্লায় ইমাম হিসেবে কর্মরত থাকে। এরপরও সে বিভিন্ন সময় দাওয়াতি কাজে নারায়ণগঞ্জে আসত ও অন্যান্য সদস্যদের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হত।

ময়মনসিংহ ও আরামবাগ থেকে গ্রেফতারকৃত নারী জঙ্গি ফিরোজা রহমান, নাঈমা ও রুবাইয়া বিনতে নুর উদ্দিন ওরফে হুরের রাণী সাথে তার স্ত্রী’র মাধ্যমে পরিচিত হয়। মিজান বিভিন্ন সময় এই নারী জঙ্গিদের কে অনলাইনে জেএমবির বয়ান প্রদান করত বলে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত নারী জঙ্গিরা স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। মিজানুর রহমান মূলত জেএমবির দাওয়াতি শাখার সদস্য হিসেবে নিযুক্ত প্রাপ্ত।