চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য নাজিমউদ্দিনের সাইনবোর্ড কার্যালয়ে শ্রমিকদের তালা

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): সাইনবোর্ড টু চাষাঢ়া লিংকরোডের চাঁদার সম্রাট ভাইসচেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিনের চাঁদাবাজির রাজত্বে তালা মেরে দিয়েছে অতিষ্ঠ পরিবহন শ্রমিকেরা। এ সময় তারা নাজিমউদ্দিন ও তার চাঁদাবাজির সহযোগিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে। শ্রমিকদের উপরে হামলার চেষ্টা করলে নাজিমউদ্দিনের খালাতোভাই ও নাতিকে ধাওয়া করে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করে। এ ঘটনায় সাইনবোর্ড এলাকার পরিবহন শ্রমিকসহ অস্থায়ী দোকানদারা স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে।
জানা গেছে,সাইনবোর্ড এলাকার পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিএনজি ড্রাইভার্স ইউনিয়ন(রোজিঃ-৪৯৪) নামের একটি সংগঠন রয়েছে। সংগঠনের সভাপতি পদে আলমগীর ও সেক্রটারী পদে সোবহান মিয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও ৩নং উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্বরত সদর উপজেলার ভাইসচেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে সংগঠনের কার্যালয়সহ যাবতীয় দায়িত্ব দখল করে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে,  নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে সদর উপজেলার ভাইসচেয়ারম্যান  নাজিমউদ্দিন তার খালাতো ভাই রাজ্জাক নাতিসহ তাদের নিজস্ব চাঁদাবাজ গ্রুপ দিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে গড়ে তুলে। প্রতিদিন সাইনবোর্ড এলাকায় বাস-ট্রাক-সিএনজি-অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে থাকে নাজিমউদ্দিনচক্রটি। এ ছাড়াও অস্থায়ী দোকানপাট থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিদিন। এ অবস্থায় সাইনবোর্ড এলাকার পরিবহন শ্রমিকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সাইনবোর্ড শাখার সিএনজি ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ১নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন,পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠনটি ব্যবহার করে এবং শ্রমিকদের বোকা বানিয়ে শুধুমাত্র এমপি শামীম ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে নাজিমউদ্দিন। সংগঠনের কার্যালয়ে শ্রমিকেরা ব্যবহার করতে পারছে না। বছরের পর বছর ধরে শ্রমিক সংগঠনের তহবিল তছনছ করে খাচ্ছে নাজিমউদ্দিন। কোন হিসাব দিচ্ছে না। তাকে বারে বারে বলার পরেও থানা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সামসুল হকের মধ্যস্থতায় কয়েকদফা বসলেও হিসাব নিয়ে গড়িমসি করছে নজিমউদ্দিন।
এ অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আজ সাধারন শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছে নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। মিছির করার সময়ে নাজিমউদ্দিনের সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। তবে উপস্থিত পুলিশ ভাই ও শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এ অবস্থায় সাইনবোর্ড এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় দোকান মালিকেরা।
এ ব্যাপারে গনমাধ্যমকে অভিযুক্ত সদর উপজেলার ভাইসচেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন জানান,সুরুজ বেপারী,রাজ্জাক বেপারীর নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের উপরে হামলা চালানো হয়েছে। আমি কোন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই।