নজরুল একাডেমি : ৫০ বছরের অর্জন

 

জাহাঙ্গীর হোসেন (আজকের নারায়নগঞ্জ):  নজরুল একাডেমি ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। এর প্রতিষ্ঠাতা তালিম হোসেন খ্যাতিমান কবি। স্বাধীনতার পর দালাল আইনে দণ্ডিত। এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ খণ্ড নজরুল স্বরলিপি, কয়েকটি সিডি-অডিও ক্যাসেট এবং কয়েকটি প্রকাশনা বের হয়েছে। নজরুল শিক্ষার্থী অসংখ্য। বর্তমানে সেখানে অধ্যক্ষ আছেন খালিদ হোসেন। সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমান। মিন্টু রহমানের লাগামহীন কথাবার্তার কারণে এই মুহূর্তে ফেসবুকে এবং অফলাইনে বিতর্কিত চরিত্র। নজরুল একাডেমিতে বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে আছেন ইয়াকুব আলী খান, মইদুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন। এই মুহূর্তে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা খুবই কম।

নজরুল একাডেমি থেকে প্রকাশিত কোন গ্রন্থেরই দ্বিতীয় সংস্করণ বা মূদ্রণ নেই। বস্তুত প্রকাশনা বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। অডিও সিডি যাদের বের হয়েছে, তারাও কোন উল্লেখযোগ্য শিল্পী নন।

নজরুল একাডেমি’র কার্যক্রম সম্পর্কে দেশের তিনজন খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য

‘এটি ঠিক, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে একাডেমির অনেক কাজই করা যায় না। তবে একাডেমির নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যেও দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। নজরুল বাংলা সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক কবি, এভাবে উপস্থাপন না করলে তাকে অসম্মানই করা হয়।’
– অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ
বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

‘এ দেশে নজরুলচর্চার ক্ষেত্রে নজরুল একাডেমির একটি ভূমিকা রয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। গবেষণাকাজ বা প্রকাশনা আরও হওয়া উচিত ছিল। আরেকটি বিষয়, সংকীর্ণতা দিয়ে নজরুলচর্চা সম্ভব নয়। আর সবকিছুতেই সরকারি অনুদানের দিকে তাকিয়ে থাকাও উচিত নয়।’
– কবি মোহাম্মদ নূরুল হুদা
সাবেক নির্বাহী পরিচালক, নজরুল ইন্সটিটিউট

‘সবসময় এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যুক্ত ছিল। তাই এর কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের ধোঁয়াশা রয়েছে। এ সংগঠনের কোনো নেতাকে জাতীয় কোনো প্রগতিবাদী আন্দোলনেও আমরা মাঠে দেখি না।’
– গোলাম কুদ্দুছ
সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট