” কবিতা লিখা প্রসঙ্গে “

–গোলাম কবির

একটা কবিতা লিখে শেষ
করতেই কখনো
আর একটা কবিতা পিছন
থেকে ঠেলা দেয় সামনে
যাবার জন্য, যেমন
জ্যামে থাকা রাস্তায় এক
রিকশা আরেকটা কে
ধাক্কায়।
কখনো লালঝুঁটি
মোরগের মতো দৌড়ে
বেড়ায় মগজের সারা
উঠান জুড়ে। কখনো
শুঁয়ােপোকার মতো
আস্তে আস্তে হেঁটে
বেড়ায় হৃদয়ের গহীনে,
কখনো পড়ন্ত দুপুর
বেলায় বালকের একলা
শান্ত ঝিলের জলে শাপলা
কুড়ানো চিমশানো
শরীরের মতো লেপ্টে
থাকে সারাটা মনে।
কখনো একটা কবিতা
লিখার জন্য
সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা
নামে,
নদীর বুকে ডুবে যায় চাঁদ,
গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে যায়
সারাটা পৃথিবী,
সূর্য কিংবা চন্দ্রে গ্রহণ
লাগে
কিন্তু যে কবিতাটা লিখবো
বলে মনে করেছিলাম তা
আর লিখা হয়ে ওঠে না!
রূপকথার বন্দী রাজকুমারীর

মতো ঘুমিয়ে থাকে দিনের পর

দিন, মাসের পর মাস!
লিখা আর হয়ে ওঠে না।
অনিদ্রা আর বিষন্নতা
সঙ্গী হয় আমার,
কবিতাকে আমার
প্রেমিকার মতো মনে হয়!
যে তখন কেবলই নিন্দা
আর বিদ্রুপের কাঁটায়
আঘাত করে অথচ
আমার মনে হয়
” সেই ভালো, সেই
ভালো,
আমারে না হয় না
জানো’র মতো।