ভোট দিতে এসে নিজের ভোটার নম্বর বলতে পারলেন না সরওয়ার!

সারাবাংলা(আজকের নারায়নগঞ্জ):  বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তিনি আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার সৈয়দা মুজিবুনেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। তিনি বুথে ঢুকে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বলেন, তিনি তার ভোটার নম্বর জানেন না।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, ভোটার নম্বর ছাড়া ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। নম্বর এখন খুঁজে বের করা যাবে না।

এরপর মজিবর রহমান সরওয়ার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, অর্ধশতাধিক কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোট হবে না।

এ সময় মজিবর রহমান সরওয়ার অপেক্ষা করতে থাকেন তার ভোটার নম্বরের কার্ড আসার জন্য। কিন্তু বাইরে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী অনেকেই ‘জয় বাংলা’, ‘সরওয়ারকে বাইর কর’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকে। ২০-২৫ জন ভোটকেন্দ্রে ঢোকার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। এ সময় মজিবর রহমান সরওয়ার কেন্দ্রে আটকা পড়েন। বাইরে আরও লোক জড় হয়। অতিরিক্ত পুলিশ এসে বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারকে বের করে আনেন। তিনি ভোট দিতে পারেননি।

বাইরে বের হলে অপেক্ষারত নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী লোকজন মজিবর রহমান ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের ঘিরে ধরেন। তার সঙ্গে থাকা লোকজন আওয়াজ তুলে সরওয়ারকে বের করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা মজিবর রহমান সরওয়াকে গাড়িতে তুলে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মাঠে রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী বশিরুল হক ঝুনু নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।

বরিশালে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ইকবাল হোসেন (তাপস), মই মার্কায় বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী, হাত পাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ওবাইদুর রহমান (মাহবুব), কাস্তে প্রতীকে সিপিবির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।