রাজধানীতে বাসের চাপায় দুিই শিক্ষার্থী নিহত,ভাংচুর-আগুন

নগর সংবাদ(আজকের নারায়নগঞ্জ):   রাজধানীর কুর্মিটোলার এয়ারপোর্ট রোডে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে চারজন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল।

আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের সামনে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম। মীমের বাবার নাম জাহাঙ্গীর ও করিমের বাবা মৃত নূর ইসলাম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের এডিসি আবদুল আহাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চালক ও হেলপারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরের উপকমিশনার প্রবীর কুমার দাস জানান, জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে দুজন মারা গেছে। আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের পাশের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিরপুর-উত্তরা রোডের জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর থেকে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে আসছিল। এ সময় ফ্লাইওভারের শেষ দিকে, রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল একদল শিক্ষার্থী। বাসটি ফ্লাইওভার থেকে নেমেই দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন।

খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এমইএইচ বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে খিলক্ষেত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে দুই পাশের সড়কে শতাধিক যানবাহনের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ক্যান্টনমেন্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল জানান, আজ দুপুরের দিকে এই ঘটনার পর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ ‍শুরু করে। সেখানে তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

এএসআই বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা র‌্যাডিসন হোটেলের সামনের রাস্তায় যেখানে ইউটার্ন গ্যাপ রয়েছে, সেখান থেকে রাস্তা পার হচ্ছিল। অনেকে বাসের জন্য ফুটপাতে অপেক্ষা করছিল। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে, বাসচাপায় চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। যদিও এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাস ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ফলে এয়ারপোর্ট সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দুই পাশে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়।