পাষন্ড উর্মি- বখাটে খোকনের লিভ টুগেদার!

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ):  অবৈধ পরকীয়ার সম্পর্কের ভাবেই ধরাকে সরা জ্ঞান করা সেই  পিতৃ-মাতৃহীন অনাথ শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতনকারী আতাউল্লাহ খোকন আগে থেকেই বখাটে। শ্বশুরবাড়িতে ঘর জামাই থেকেও উর্মির সঙ্গে পরকীয়ায় মেতে ওঠে সে। বাবার বাড়ি থেকে ভাড়া উঠিয়ে কেনা প্রিমিও প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়াতো এই প্রেমিকা উর্মিকে নিয়ে। এক পর্যায়ে স্ত্রী সন্তান ছেড়ে উর্মিকে নিয়ে আত্মগোপন করে বখাটে খোকন। এতে উভয়ের পরিবারে দেখা দেয় অশান্তি।

এদিকে বারবার চেষ্টা করেও উর্মিকে তাঁর স্বামী সোহাগ ফিরিয়ে নিতে না পেরে আদালতে মামলা পর্যন্ত করেন। আর ভরণ-পোষণ চেয়ে খোকনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেয় তাঁর স্ত্রী রেজোয়ানা চৌধুরী। এরমধ্যেই ঘটে যায় খোকন ও উর্মির বর্বর নির্যাতনের ঘটনা। আর এভাবেই বেরিয়ে আসে পাষন্ড উর্মি- বখাটে খোকনের পরকীয়ার লিভ-টুগেদারের কাহিনী।

ওই ঘটনার পর থেকে তাদের ভাড়া নেয়া ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর আনন্দনগর এলাকার শহীদুল্লাহর বাড়ির ফ্ল্যাটটি পুলিশ তালাবদ্ধ করে রাখে। ওই বাড়িতে খোকনের আসবাবপত্রসহ একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। ঘটনার ৮দিন পর খোকনের স্ত্রী রেজোয়ানা চৌধুরী ওই বাড়িতে লোকজন নিয়ে এসে ঘরের তালা ভেঙ্গে আসবাবপত্র নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাড়িওয়ালা ও স্থানীয় লোকজন তাঁদের বাধা দেয়। এরপর পুলিশ তাঁদের ফোন করে চলে যেতে বললে তারা চলে যায়।

রেজোয়ানা চৌধুরী জানান, খোকন কোনো কাজকর্ম করেনা। ফতুল্লার ইসদাইরে খোকনের বাবা একটি বাড়ি করে মারা যায়। এরপর সেই বাড়ির ভাড়া উঠিয়ে খোকন হাত খরচ চালায় এবং প্রাইভেটকার কিনেছে। আমাকে বিয়ে করার পর থেকে আমার বাবার বাড়ি ঢাকা শাহজাদপুরে আমাদের নিয়ে বসবাস করেন। আমাদের ২ ছেলে এক মেয়ে। আমাদের পাশের বাড়িতেই ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়ার তাঁর স্ত্রী উর্মিকে নিয়ে বসবাস করতেন। এতে উর্মির সঙ্গে খোকনের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। প্রথমে তাঁদের বিষয় বুঝতে না পারলেও পালিয়ে যাওয়ার পর ব্যাপরটি জানাজানি হয়।

তিনি আরও জানান, আমি চেষ্টা করেছি খোকনকে ফিরিয়ে নিতে কিন্তু সে কোনো কিছুতেই আমার কথা শুনেনি। উর্মিকেও চেষ্টা করেছে তাঁর স্বামী সোহাগ ফিরিয়ে নিতে। উর্মিও তাঁর স্বামীর কথা শুনেনি। স্ত্রী ও স্বামী সন্তানদের মনে কষ্ট দিয়ে কেউ সুখী হতে পারেনা। খোকন ও উর্মিও পারেনি। তাঁরা যে বিয়ে করেছে তার প্রমাণ হিসেবে কাবিননামাও দেখাতে পারেনি। তাঁরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের বিচার হতে হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ইলিয়াস জানান, ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর আনন্দনগর এলাকার শহীদুল্লাহর বাড়ির ভাড়াটিয়া আতাউল্লাহ খোকন ও উর্মি আক্তারের বাসায় ৩ মাস ধরে পিতৃ-মাতৃহীন ৮ বছর বয়সী শিশু মাহিকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজে নেয়। এরপর থেকে শিশুটিকে প্রায় সময় বাসায় ভারী কাজ করতে না পারলেই মারধর করত। গত শুক্রবার ১৯ জুলাই রাতে বাচাও বাচাও চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ওই দম্পতির বাসায় গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে শিশুটিকে মুমর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এঘটনায় জাকির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তিনি আরো জানান, শিশুটির উপর তাঁরা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দিয়েছে। এরমধ্যে গরম খুন্তির ছ্যাকায় শিশুটির ডান হাতের এক পাশের চামড়া উঠে গেছে। একাধিক থাপ্পরে শিশুটির দুই গালসহ দুটি চোঁখ ফুলে যায়। তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদ হেফাজতে থাকতে গাজিপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেন আদালত। এরপর শিশু মাহিকে সেখানে রাখা হয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই হানিফ জানান, ২৩ জুলাই অনাথ শিশু মাহিকে (৮) নির্যাতনকারী পাষন্ড আতাউল্লাহ খোকনের বিরুদ্ধে ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সময় উর্মি আক্তার নিজেকে সাত মাসের অন্তঃসত্বা দাবি করায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করেছে।