ভোলাইলে সিলভি টেক্স ডাইং দখলের অভিযোগ

ফতূল্লা(আজকের নারাযনগঞ্জ):  ফতুল্লার ভোলাইলে সিলভি টেক্স ডাইং দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় দখলকারীরা ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে আতংক সৃষ্টি করে। এতে রাত সাড়ে ৮ টার সময় ঢাকা মুন্সিগঞ্জসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রোববার রাতে ভোলাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে ডাইংয়ের মালিক নুরুল হক সরকার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় বাদী হয়ে শহিদুল ইসলাম সুমন,ইমরান ও জামানসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফতুল্লার কাশিপুরের ভোলাইল এলাকায় নুরুল হক সরকার কয়েক বছর আগে সিলভি টেক্স ডাইং ও ফিনিসিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ২০০৬ সালে নুরুল হক তার প্রতিষ্ঠানটি শহিদুল ইসলাম সুমনের কাছে মাসিক ২ লাখ টাকায় ভাড়া দেয়। ২০১১ সালে পুনরায় নুরুল হকের কাছ থেকে সুমন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভাড়া নেয়ার জন্য নবায়ন করে। আর এরপর থেকে সুমন প্রতিষ্ঠানের ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করা বন্ধ করে দেয়।

এক পর্যায়ে নুরুল হক প্রতিষ্ঠানের ভাড়া বাবদ সুমনের কাছে ৬০ লাখ টাকা পাওনা হয়। অপরদিকে সুমুন বিদুৎ বিল ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯’শ ৫৫ টাকা ও গ্যাস বিল বাবদ ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭’শ ৫০ টাকা বকেয়া রাখে। সর্বমোট প্রায় ১ কোটি টাকা সুমনের কাছে পাওনা হয় নুরুল হক। পাওনা টাকা চাওয়ায় সুমন ও নুরুল হকের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্ধ। যা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।

এক পর্যায়ে বিষয়টি বিকেএমইএ’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হাতেম অবগত হয়। পরবর্তীতে কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আ’লীগের সভাপতিও ও হাতেম বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে একটি সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু ঐ সিদ্ধান্ত সুমন মানেনি। পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমানকে বিষয়টি অবহিত করে নুরুল হক।

এরপর নুুরল হক শনিবার বিকেলে তার প্রতিষ্ঠান নিজে বুঝে নেয়। রোববার রাত ৮টার দিকে শহিদুল ইসলাম সুমনসহ বেশ কয়েকজন সিলভি ট্রেক্সে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে। এক পর্যায়ে নুরুল হক সরকারের দারোয়ান মনসুর ও আনোয়ারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। এমনটিই জানালেন নুরুল হক সরকার।

এসময় প্রতিষ্ঠান দখলকারীরা ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এব্যাপারে শহিদুল ইসলামের সুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তার মুঠোফোনটি রিসিভ করেনি।

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মুজিবুর রহমান বলেন, ভোলাইল এলাকায় কে বা কারা একটি ডাইং প্রতিষ্ঠান দখল করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ব্যাপারে বাদী অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।