সিদ্ধান্ত ছাড়াই মূলতবী না‘গঞ্জ জেলা আ‘লীগের প্রথম সভা

আজকের নারায়নগঞ্জ :    ২০১৭ বছরের ২৫ শে নভেম্বর আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়ার পর এক পরিচিতি সভা ব্যতিত আর কোন সভার আয়োজন করতে পারেনি নেতারা।

তবে কমিটির নেতাকর্মীদের দাবির মুখে দেরীতে হলেও তর্ক বিতর্ক আর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই জেলা আওয়ামীলীগের প্রথম কার্যকরী সভা আগামী ৩১ জুলাই বিকাল ৪টা পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করা হয়।

রোববার (২৯ জুলাই) ২ নং রেলগেটস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জেলা কমিটির প্রথম কার্যকরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পূণাঙ্গ কমিটির ৬টি পদ পুরণ করা নিয়েই মূলত জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে তর্ক বিতর্ক এবং হট্টোগোলের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল জানান, সফলভাবে জেলা কমিটির প্রথম কার্যকরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে তবে এটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় আগষ্টের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে জানা যায়, চরম গোপনীয়তার মধ্যে জেলা কমিটির প্রথম কার্যকরী সভায় সহ-সভাপতি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ১ জন করে ও ২ জন সদস্য পদসহ মোট ৬টি শূণ্য পদগুলো পূরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতিরা, এমপিবৃন্দ শুণ্যপদগুলো পূরণে কয়েকটি নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু তাতে কোন সমঝোতা না হওয়ায় শেষে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর কার্যকরী সভা মুলতবী ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, সহ-সভাপতি পদ পূরণে সোনাগাঁয়ের এসকে শামীম কিবরিয়ার নাম প্রস্তাব করলেই কমিটির নেতৃবৃন্দরা প্রতিবাদ জানান। এই ব্যক্তি সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেন এবং নানান তথ্য খোলামেলা উপস্থাপন করলে তা নিয়ে উত্তেজনা তৈরী হয়। এছাড়া কার্যকরী সভায় ব্যাংক আজিজ, আলমগীর হোসেনের নাম প্রস্তাব করলেও উচ্চবাচ্য হয়।

অপরদিকে জেলা কমিটির এক সিনিয়র নেতা সদরের শরফুদ্দীন এবং সিদ্ধিরগঞ্জের সুমন গাজীর নাম প্রকাশ করলে শরফুদ্দীন নিয়ে আপত্তি না তুললেও সুমন গাজী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা এবং হৈ চৈ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া জেলা কমিটির নেতারা সৈয়দপুরের জসিম উদ্দিন, জিয়াউদ্দিন কাজল এবং আবুল হাসনাত শহীদ, জাহেদ আলীর নাম প্রস্তাব করা হলেও ঐক্যমত্যে না পৌঁছাতে পারায় তা চূড়ান্ত করা সম্ভবপর হয়নি।

এছাড়া জেলা কমিটির দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টার কার্যকরী সভায় জেলা কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ এর পদত্যাগ নিয়েও নানা কথা উঠে। অনেকে বলেন তিনি পদত্যাগের কথা বললেও এখনো পদত্যাগ পত্র জমা দেন নি।

তবে সিনিয়র নেতারা বলেছেন বিপরীত কথা। ফলে এ ব্যাপারেও কিছুটা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। কমিটির কেউ কেউ বলেন, পলাশ জেলা কমিটিতে থাকতে চায় আবার অনেকে এর বিপরীতে বলেন না তিনি পদত্যাগ করেছেন শুধু পদত্যাগপত্র জমা দেন নি। তখন অনেকে বলে উঠেন পদত্যাগ করলে এর প্রমাণপত্র কোথায়?

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সভাপতি আব্দুল হাই, সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকে করে ৩ সদস্যের জেলা কমিটি ঘোষণার এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সেই কমিটির প্রথম কার্যকরী সভায় শুরুতে আড়াইহাজার ও গোপালদী পৌরসভার দুই নব নির্বাচিত মেয়র সুন্দর আলী এবং আব্দুল হালিম শিকদারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক থেকে বিভাগীয় অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নিত পাওয়ায় তাকে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দরা শুভেচ্ছা জানান।

জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সভায় আগষ্ট মাসের জেলা আওয়ামীলীগের কর্মসূচী নিয়েও আলোচনা করা হয়। কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে শুধু নগরীতে কর্মসূচি পালন আবদ্ধ না রেখে ৫টি উপজেলাতেই আগষ্ট এর ১ তারিখ ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পক্ষে মত দেন।

এছাড়া জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডেও যাতে কর্মসূচি পালন অব্যহত থাকে। এছাড়া আগষ্ট ব্যাপী কর্মসূচি পালনে ফান্ডের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। কার্যকরী সভায় বক্তারা আরো বলেন, সামনে যেহুতু নির্বাচন সেহুতু আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জেলা কমিটির নেতারা প্রচারণা চালাতে হবে।

এ ব্যাপারে কমিটির সকলকে সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়। এছাড়া জেলা কমিটির একজন প্রস্তাব করেন, জেলা আওয়ামীলীগ যাতে কেন্দ্রীয় কমিটির কমসূচি হলে জেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। কার্যকরী সভায় এক এমপি ফান্ডে তার সহযোগিতার কথা জানান।

আরেক এমপি জেলা কমিটির নেতাদের কাছে বলেন, যেহুতু সামনে নির্বাচন তাই রাজনীতির নামে কেউ যাতে অপপ্রচার না চালাতে পারেন। এছাড়া উপজেলায় সভা আয়োজন করেন জেলা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে থাকার প্রস্তাব দেন।

আরেক এমপি বলেন, এর আগে ৫টি উপজেলায় আওয়ামীলীগের কর্মসূচি হলেও কয়েকটিতে আমাকে জানানো হয় নি। বরং চ আমি যাতে না যাই তার জন্য নানা কথা বলা হয়েছে। কিন্ত আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই আওয়ামীলীগের যে কোন সভায় যাতে আমাকে জানানো হয় এবং আমি অবশ্যই তাতে অংশগ্রহণ করবো।

এছাড়া সভায় শোকের মাস আগষ্টে গরীব-দুঃখীদের যাতে সেবা দেয়া যায় কর্মসূচিতে এমন একটি বিষয় সংযুক্ত করার আহবান জানান জেলা কমিটির সিনিয়র এক নেতা।

জেলা কমিটির প্রথম কার্যকরী সভায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হোসনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী,সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, আব্দুল কাদির, য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল পারভেজ, ডা.আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, একেএম আবু সুফিয়ানসহ পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।