আড়াইহাজারে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় পুলিশী হয়রানির অভিযোগ

মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় এমদাদুল নামে স্থানীয় এক মাংস ব্যবসায়ীর ওপর পুলিশে নির্যাতন মেনে এসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকারি এমদাদুল দাইরাদী এলাকার তাইজউদ্দিন মোল্লার ছেলে।

শনিবার মাংস ব্যবসায়ী এমদাদুল অভিযোগ করেন দুই মাস আগে এক রাতে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের এটিসআই মামুন (হাবিলদার) আমার বাড়িতে গিয়ে আমাকে ধরে জালাকান্দি কবরস্থানে নিয়ে একটি কক্ষে বসিয়ে রাখেন। পরে আমাকে বলা হয় ‘তোর নাম বলে একজন লোক ইয়াবা (বড়ি) দিয়ে গেছে।
কথা বলেই এটিএসআই মামুন আমার কাছে তিন লাখ টাকা দাবী করেন।

টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার স্ত্রীসহ আমাকে গুলি করে দেয়ার হুমকী দেয়। ‘তখন আমি ওই পুলিশকে বলি ইয়াবা যে আমার সেটা আপনি কি করে শিঁউর হলেন। ইয়াবার মধ্যে কি আমার নাম লেখা রয়েছে?’

পরে আমি তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ৪৫ হাজার টাকা পুলিশের হাতে দেই। পরে আমার হ্যান্ডকাপ খোলে মুক্তি দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়ে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে সদ্য যোগদানকারী এএসআই মামুন তার ব্যাক্তিগত সোর্স রফিককে নিয়ে আমার বাড়িতে আসে। দরজা লাথি দিয়ে ভেঙে ঘরে ঢুকে।
পরে আমাকে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের ওসি’র কথা বলা হয়। পরে ওসি’র সাথে আমি কথা বলার পর ওসি আমাকে বলেন, ঠিক আছে তুমার কাছে যখন তারা গেছেই তাদেরকে খুশি করে দাও।

পরে আমার কাছে ২ হাজার তিনশত টাকা ছিল। আমি ওই টাকা সোর্সের হাতে দিয়ে গতরাতে মুক্তি পাই।

তিনি আরও বলেন, রফিক মাঝে মধ্যে এলাকায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার কোমরে সব সময় হ্যান্ডকাপ থাকে। এ ঘটনায় আমি মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনার মান্নানকেও জানিয়েছি।

তিনি জানান, আমি মাদক ব্যবসায়ী কবির ওরফে ন্ড্রেজার কবিরকে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছি। আমার আপন ভাতিজা ডালিমকেও তিনবার পিটিয়ে বের করে দিয়েছি। এর আগে কবিরকে ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে ছিলাম। এর পর থেকেই আমাকে তারা টার্গেট করা হয়েছে।

আমি স্থানীয় গাজীপুরা ব্রিজের নীচে মাংশ বিক্রয়ের কাজ করি। আমার মাংশ বিক্রেয় লাইন্সেস রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মাদকের কোন মামলাও নেই। মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেয়ায় পুলিশ আমাকে অহেতুক হয়রানি করছে। আমি এর নির্যাতনের বিচার চাই।

গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ওসি হাসান বলেন, আমি এখানে যোগদানের আগে গোপালদী ফাঁড়ির এটিএসআই মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে এমদাদুল নামে এক ব্যাক্তি। এনিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এএসআই মামুন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি অন্য একটি বিষয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছি। তাছাড়া অভিযোগকারীর ছেলের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার নামে এ থানায় আরো একজন রয়েছে। শুনেছি এর আগে তার সাথে অভিযোগকারীর কি সমস্যা রযেছে। আপনি বিষয়টি ভালোভাবে জানতে স্থানীয়দের মতামত নিতে পারেন।