রূপগঞ্জে আজহারীর ওয়াজকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা

 

রূপগঞ্জ(আজকের নারায়নগঞ্জ):আলোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর গত ৩১ জানুয়ারি রূপগঞ্জ উপজেলার বরাপা এলাকায় ওয়াজ করার কথা ছিলো। কিন্তু গত ৩০ জানুয়ারি আয়োজক কমিটি অনিবার্য কারণবশত ওয়াজ মাহফিল স্থগিত করে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে মিজানুর রহমান আজহারি তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে  বলেন, প্রিয় বরপা এলাকার ভাই ও বোনেরা আমি মিজানুর রহমান আজহারী বলছি। আজকে (শুক্রবার) আপনাদের এলাকায় একটি মসজিদে এসে আমার জুমা পড়ার কথা ছিলো। মসজিদটি আমার উদ্বোধনের কথা ছিলো এবং জুমার সালাতের পরে একটি তাফসির প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের কথা ছিলো। কিন্তু প্রশাসনিক কিছু লিমিটেশন থাকার কারণে আমাদের এ প্রোগ্রামে আসার সুযোগ হয় নাই। আমি রেডি ছিলাম আসার জন্য। কিন্তু সর্বশেষ আমার কাছে যে তথ্য আসলো প্রশাসনিক কারণে সেখানে আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেয়া হবে না । যদিও প্রোগ্রাম হচ্ছে না। আপনারা যারা দুর দূরান্তে থেকে যারা উপস্থিত হয়ে জড়ো হয়ে আছেন। আপনাদের এই নেক উদ্দেশের কারণে কষ্টের কারণে আল্লাহ তাআলা আপনাদের জালসা দান করবেন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছে যদি কোনো দিন প্রশাসনিক গ্রিন সিঙ্গেল পাওয়া যায় আমি বরপা এলাকা ওয়াজ করতে আসব।

এদিকে মিজানুর রহমান আজহারীর ওয়াজকে কেন্দ্র করে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার লোক বিক্ষিপ্তভাবে বরপা এলাকায় এবং মাহফিল প্যান্ডেলে জড়ো হতে থাকে। তারা সরকার বিরোধী বক্তব্য ও শ্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয় আজহারির সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সরকার এবং প্রশাসন বিরোধী লেখা পোস্ট করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় জনগণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিক পৌছালে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এত বড় ওয়াজ মাহফিল এলাকায় প্রথমে রূপগঞ্জ থানার কোনো পুলিশ ছিলো না। পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় তাদের অবস্থান ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। বহিরাগতরা এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে ।

স্থানীয়রা বলার পরেও আজহারির সমর্থকরা এসে উত্তেজিত অবস্থায় জানতে চায় কেনো জালসা হবে না । কে বন্ধ করেছে। তখন স্থানীয় জনগণ এগিয়ে না আসলে শুক্রবার বরপা এলাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতো । পরে খরব পেয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমকে বিষয়টি জানায় এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাতে বলে । মন্ত্রীর পুলিশ পাঠানোর কথা শুনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম সঙ্গে সঙ্গে ৪ গাড়ি পুলিশ পাঠায়। এসপির নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।