কাদিয়ানীদের সুন্দরী মহিলাদেরও বিয়ে করা যাবে না- আহমদ শফী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ কাদিয়ানীদের সাথে কোন ধরণের আত্মীয়তা করা যাবে না এমন ফতোয়া দিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ‘আমাদের নবীর পর কোন নবী আসবে না। আমাদের নবী মোহাম্মদ (সা.) কে যারা নবী মানবে না, শেষ নবী মানবে না তারা কাফের। কাফের। কাফের। যারা কাদিয়ানীদের কাফের মনে করে না তারাও কাফের।

তিনি বলেন,আমাদের নবী আল্লাহর শেষ নবী। যারা নবী মুহাম্মদ (সা.) কে শেষ নবী মানেনা তাঁদেরকে মুসলমানের কবরে দাফন করা যাবে না। কাদিয়ানীদেরকে মুসলমানের কবরে দাফন করা যাবেনা। তাঁদের সাথে আত্মীয়তা করা যাবেনা। তাঁদের মহিলাদের বিয়ে করা যাবেনা।’

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষনার দাবীতে আয়োজিত এক ইসলামী মহাসম্মেলনে এ হুশিয়ারী উচ্চারন করেন আহমেদ শফী।  আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এই ইসলামী মহা সম্মেলনের আয়োজন করে।

আহমদ শফী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মহাসম্মেলনে বলেন, ‘আমি আগেও মানুষ দ্বারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি যে, কাদিয়ানীদের সরকারি ভাবে অমুসলমান ঘোষণা করো। এখােনও সরকারি মানুষ আছে আপনারা গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলুন অতি দ্রুত কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করতে।

সত্যই তুমি (প্রধানমন্ত্রী) যদি মুসলমান হও তবে কাদিয়ানীকে অতি সত্ত্বর কাফের ঘোষণা করো। নয়তো এই দেশে কি হবে জানি না। প্রধানমন্ত্রী আপনি জিজ্ঞাসা করুন মানুষের কি অবস্থা। কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষণা করতে ১৬ কোটি মুসলমান সবাই একমত। এটা করলে তবে আমরা আপনার সাথে থাকবো নইলে আমরা থাকবো না। নয়তো থাকবো না। থাকবো না। তোমার মানুষ দ্বারা তোমাকে বার বার জানানো হয়েছে, তুমি কর্ণপাত করতেছ না। যদি কর্ণপাত করো তাহলে অতি দ্রুত কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করো। এরা (কাদিয়ানী) এদেশে থাকতে পারবে কিন্তু হিন্দু হইয়া এবং বৌদ্ধ হইয়া। মুসলমান হইয়া থাকতে পারবে না।’

মহাসম্মেলনেক ঘিরে যোহরের নামাজের আগে থেকেই মহাসম্মেলনে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রসার বিভিন্ন আলেম, ওলামা, ছাত্র-শিক্ষক, বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, হেফাজতের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে লাখো মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে মহাসমাবেশে উপস্থিত সকলেই ছিলেন সুশৃঙ্খল। সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর ছিলেন, একই সাথে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সদস্য থাকায় মহাসমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবেই সমাপ্ত হয়েছে।