বিএনপি কর্মী বাদশার বিরুদ্ধে ১৯ মামলার ১০টিই মাদকের !

 

সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন বাদশা ওরফে বিয়ার আলমগীরের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ আলমগীর বাদশার মত চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাকে নিজেদের কর্মী হিসাবে দাবী করে কর্মসূচী পালন করছে।
তবে এর আগে আলমগীর হোসেন বাদশাকে নিজেদের কর্মী দাবী করে নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড.তৈমুর আলম খন্দকার ও বর্তমান সাধারন সম্পাদক মামুন মাহমুদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছেন,বাদশা মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সরকারী সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে সে।
এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর দাবী ,বন্দুকযুদ্ধের সময় দুই রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল এবং দেড় হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিহতের বিরুদ্ধে সোনারগা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৯ মামলার মধ্যে ১০টি ছিল মাদকের মামলা। ।
এর ফলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও তার অনুগামী বিএনপির নেতাকর্মীরা এ সকল কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দিলেও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বিব্রতবোধ করছে।  আবার তার বিলম্বের কারনে আজাদকে ছাড়াই বিক্ষোভ সমাবেশ সমাপ্ত করে দেয়ায় মিশন পাড়ামোড়ে এসে মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ আচরন করেন আজাদ।সমাবেশে তার প্রধানববক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল।

 

কে এই আলমগীর হোসেন বাদশা ? কি তার পরিচয় ?

জানাগেছে, ২০১২ সালের দিকে জেলা তরুণ দলের সভাপতি টিএইচ তোফার মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন আলমগীর বাদশা। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জে সাত খুনের সাজাপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের ট্রাক স্টান্ডে মাদক বিক্রি করতেন আলমগীর বাদশা। ওই সময় বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অসংখ্য মাদক মামলার আসামি হয় বাদশা।
ওই সময় টিএইচ তোফা ছিলেন নূর হোসেনের চাঁদা কালেক্টরদের মধ্যে একজন। যে কারনে তোফার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বাদশা। সেই সঙ্গে তোফার মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করা সোনারগাঁয়ের ওসমান গনি বেলালের সঙ্গেও তরুণ দলের রাজনীতি করে বাদশা। বেলাল এখন আবারো আওয়ামীলীগে ফিরে গেছেন।
এছাড়াও মহানগর শ্রমিকদলের তৎকালীন সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন আশিকের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এ বাদশা। ওই সময় নূর হোসেনের গানম্যান ছিলেন আশিক। সাত খুন মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আশিক আওয়ামীলীগে চলে যান। সাত খুনের পূর্বে নুর হোসেনের বিরুদ্ধে মিডিয়াতে নিউজ প্রকাশিত হলে অনেক সংবাদকর্মীদের নূর হোসেনের পক্ষে বাদশা হুমকি ধমকিও দিতে বলেও জানা গেছে।

আরও জানাগেছে, পরে নূর হোসেনের মাদক স্পট চালানোর পাশাপাশি আলমগীর বাদশাও তোফার সঙ্গে বিএনপির মিটিং মিছিলে পুরোদমে যোগ দিতে শুরু করে। এরই মধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে আলমগীর বাদশা। সাত খুনের পর পুরোদমে বিএনপি মুখী হন আলমগীর বাদশা। কিন্তু তারপরও কাচপুর এলাকায় শুরু করে ইয়াবা বিক্রি। নিজের মাদক স্পট নিরাপদে চালানোর কৌশল হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন নেতার শেল্টার নিতো সে।
এছাড়াও কিছুদিন জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁতীদলের মিছিলেও দেখা যেতো বাদশাকে।এর অনেক আগেই বিয়ার পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি পায় বিয়ার আলমগীর হিসেবে। কিন্তু নূর হোসেনের পলায়ন ও সাত খুনের পর বাদশা বিএনপির ছাত্রদলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) ভোরে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর চেঙ্গাকান্দি আগমন সিএনজি স্টেশনের পাশে এই বন্ধুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর বাদশা নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র গুলি ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় মঙ্গলবার ভোরে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর চেঙ্গাকান্দি আগমন সিএনজি স্টেশনের পাশ থেকে আলমগীর ও তার সহযোগীরা র‌্যাবের উপর হামলা ও গুলি চালায়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আলমগীর। এসময় র‌্যাব-১১ এর হাবিলদার হাবিবুর রহমান ও কন্সটেবল মিজান তালুকদার আহত হন।

তিনি আরও জানান, আলমগীরের নামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিভিন্ন থানায় তার নামে ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদক মামলাই ১০টি। তার কাছ থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ১৫শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।