ইমরানের উত্থানঃ অক্সফোর্ড থেকে মসনদ

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হতে যাচ্ছে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগোচ্ছে পিটিআই। এই দলের জয় মানে ইমরানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। কারণ পিটিআই বলতে বিশ্ববাসী ইমরানকেই চেনে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া ইমরানের রাজনৈতিক ও ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তার খেলোয়ারি ও শিক্ষা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ওই দুটিতে তিনি একশ’ তে একশ। পাকিস্তানের ক্রিকেটে জীবন্ত কিংবদন্তী ইমরান খানের হাত ধরেই একমাত্র বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। যতদিন খেলেছেন দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। নিজে খেলেছেন খেলোয়ার তৈরির কারিগরিও করেছেন। ওয়াসিম আকরাম-ওয়াকার ইউনুস তথা বিখ্যাত টু ডব্লিউকে পরিচর্যা করে তৈরি করেছে।


খেলোয়ারি জীবনের মতো শিক্ষাজীবনও ঝলঝলে ইমরানের। পড়েছেন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডে। মূলত অক্সফোর্ডে লেখাপড়াই তার মধ্যে রাজনীতির আগ্রহ জন্ম দিয়েছে।

ইমরানের জন্ম ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর লাহোরে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ইক্রামূল্লা খান নিয়াজি এবং শৌকত খানুমের সন্তান তিনি ৷ লাজুক এই ছেলেটি বড় হতে থাকে তাঁর চার বোনের সঙ্গে৷ লাহোরের এচিসন কলেজ পড়াশুনা৷ পরে অক্সফোর্ডে থেকে স্নাতক হন ১৯৭৫ সালে৷

১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে টেস্ট ক্রিকেট অভিষেক ৷ তার তিন বছর বাদে অবশ্য একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়া৷ ১৯৮২ সালে পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন হন৷ ৮৮টি টেস্ট খেলে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৬২টি ইউকেট ৩৮০৭ রান৷ অন্যদিকে ১৭৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে তিনি রান ৩৭০২ রান করেন এবং ১৮২টি উইকেট পান৷ তাঁর ক্যাপ্টেন্সিতে ৪৮টি টেস্টে পাকিস্তান ১৪টি জেতে এবং ৮টিতে পরাজিত হয়েছিল৷

১৯৯৬ সালে ইমরান খান গঠন করেন তাঁর রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ৷ ১৯৯৭ সালে তিনি নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র থেকে দাঁড়ালেও দুটিতেই হেরেছিলেন৷ তবে ১৯৯৯ সালের তিনি সাবের স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের সামরিক অভুত্থানকে সমর্থন করেন এই আশায় যে দেশ থেকে দুর্নীতির অবসান ঘটবে ৷ ২০০২সালে নির্বাচনে তিনি জেতেন৷

এদিকে ২০০৭ সালে ২ অক্টোবর তিনি আরও ৮৫জন সাংসদের সঙ্গে পদত্যাগ করেন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিরোধিতা করে। কারণ সেবার সেনা প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ না করেই নির্বাচনে লড়ছিলেন মোশাররফ৷ এরপর রাষ্ট্রপতি হয়ে মোশাররফ জরুরি অবস্থা জারি করে ইমরানকে গৃহবন্দী করেন৷ ওইসময় কিছুদিন তাঁকে হাজতবাসও করার পর মুক্তি পান৷

২০১৩ সালে পকিস্থানের নির্বাচনে তার দল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আসন জেতে৷ ২০১৮তে ফের ক্ষমতা দখলের লড়াইতে তিনি৷

তবে ইমরান ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাঝে মাঝেই বিতর্ক উঠেছে৷ তার প্লে-বয় ইমেজ নিয়ে নানা রটনা৷ ১৯৯৫ সালে তাণর সঙ্গে জেমিমা গোল্ডস্মিথেব বিয়ে হলেও ২০০৪ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়৷ এরপর ফের ২০১৫ সালে ব্রিটিশ- পাকিস্তানী সাংবাদিক রেহাম খানের সঙ্গে পরিণয় হলেও সে বিয়েও টেকেনি বেশি দিন। ওই বছরেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়৷ এরপরে আবার ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয় তাঁর আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা বুশা মানিকার৷

সূত্র : কলকাতা টোয়েন্টিফোর।