রনজিত কুমার তাঁর কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন- মেয়র আইভি

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ রনজিত কুমার তাঁর কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে লেখক ও সংগঠক রনজিত কুমারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘রনজিত স্মরণ সম্মিলনী’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমি ও ধাবমান সাহিত্য আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রনজিত কুমার স্মরণে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে (পাতাল মেঝে) এ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। রনজিত দা তাঁর কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তাঁর কর্ম, সপ্ন, নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন। আমরা চাই যে তাঁর সংগঠন তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করুক।
‘অনন্ত আকাশ’ নামে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি করার কথা ছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা আর যোগাযোগ করেনি। যদি সত্যিই আপনাদের সংগঠনের স্বপ্ন থাকে, রনজিত দাদার স্বপ্ন থাকে তাহলে আপনারা যোগাযোগ করবেন। কখনো ‘না’ শব্দটা আমার মুখে আসেনা। এটা যে সংগঠনের ব্যাপারে হোক না কেন। এটা যদি মানুষের কল্যাণে হয়, জনকল্যাণে হয় এবং সে কাজটা যদি আমার করার মতো ক্ষমতা থাকে তাহলে আমি কখনও ‘না’ করিনা। আমি আপনাদের সাথে মিলেমিশে অনেক কাজ করতে চাই। দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, আপনারা যে ভালোকাজগুলো করবেন তার সাথে আমি থাকবো।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেয়র আইভী আরও বলেন, দাদার (রনজিত কুমার) সাথে আমার খুব ভালো সর্ম্পক ছিল। তিনি অনেকবার বিভিন্ন কারণে সিটি কর্পোরেশনে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন পাঠাগারের (আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার) সামনে আমি যেন অবশ্যই নজরুলের ভাস্কর্য স্থাপন করি বা তাদেরকে যেন অনুমিত দেই করার জন্য। সে সময় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ছিল। আমাদের আর্থিক অবস্থা এখনকার মতো খুব একটা ভালে ছিলনা।

তখন আমি বলেছিলাম যদি আপনারা করতে পারেন তবে করেন, আমার কেনো আপত্তি নাই।আমি আপনাদের অনুমতি দিলাম। তখন তারা এখানে নজরুলের ভাস্কর্য স্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে পাঠাগার ভাঙ্গার কারণে এটা আমরা স্থানান্তর করি। যেদিন দাদা মারা গেলেন সেদিনও আমি শহিদ মিনারে গিয়েছিলাম। দেখতে দেখতে একটি বছর হয়ে গেল। আসলে সবার চলে যেতে হবে। আমরা কেউ চিরকাল বেঁচে থাকবো না।

শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির নীতি নির্ধারণী সদস্য মাহবুব সাদিকের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় শুরুতে বক্তব্য রাখেন, ধাবমান সাহিত্য আন্দোলনের সম্পাদক কাজল কানন।

স্মরণ অনুষ্ঠানে রণজিত কুমারকে নিয়ে আরও স্মৃতিচারণ করেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, সাবেক সহসভাপতি ফাহমিদা আজাদ, সহসভাপতি মনি সুপান্থ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমল আকাশ, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলম নান্টু, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, শ্রমিক নেতা বিমল দাস, প্রগতি সাহিত্য পরিষদের জেলা সমন্বয়ক জাকির হোসেন, লক্ষ্যাপাড়ের সমন্বয়ক অশীত কুমার, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল উচ্ছ্বাস, উপপরিচালক অচিন পাঠ্য, মিরাজ রেজা, গণমাধ্যম কর্মী মিলটন আনোয়ার, কবি আরিফ বুলবুল, কবি রঘু অভিজিত রায়, কৃতি কণিকা, মাহবুব স্বপন, রনজিত কুমারের ছেলে অনন্ত উৎসাহ, সহধর্মিণী সঞ্চিতা শর্মা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ২ জানুয়ারি সকালে রনজিত কুমারের অস্ত্রোপচার করা হয়। সেদিনই সন্ধ্যায় রনজিত কুমারের কর্মময় জীবনের পরিসম্পাপ্তি ঘটে।
এর পরের দিন ৩ জানুয়ারি সকালে তার মরদেহ রাখা হয় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। সেখানে সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নগরের মাসদাইর শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।