মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে কবরস্থান দখল!

 

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর মান্দায় আদালতের আদেশ অমান্য করে এক অসহায় পরিবারের জমি এবং কবরস্থান জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের শ্রীরামপুর মৌজায় হাল ৮৬৯ নং খতিয়ানের ২৪০ নং দাগে নিজ অংশ শওকত উল্লা ৪৭০৭/৮৬ নং এওয়াজ মূলে মৃত কিয়ামতুল্যা বরারর ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে ওই ৮৬৯ নং খতিয়ানের ২৪০এবং ২৪১ নং দাগের নিজ নামীয় অংশসহ এওয়াজ বিনিময়মূলে প্রাপ্ত সম্পত্তি ১৩৮৬০/৮৮ নং দলিলে ৩ ছেলে বরাবর দানপত্র দলিল করে দেন। সে মোতাবেক ছেলে আশরাফ পৈত্রিকসূত্রে ২৪০ দাগের প্রাপ্ত নিজ নামীয় অংশ হতে ৪৭১৬/১২ নং দানপত্র দলিলে একমাত্র মেয়ে আশা এবং জামাতা মোস্তফা বরাবর ২ শতক জমি হস্তান্তর করেন।

বর্তমানে সে জমিটির একাংশে আশারাফের মেয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করে আছেন এবং বিবাদী দেলোয়ারের বাড়ির পূর্ব পাশের্^ এজমালী কবরস্থান সংলগ্ন ইটের ওয়াল নির্মাণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু আশরাফের জামাই মেয়ে বসবাসরত অবস্থায় তাদের দখলকৃত জমিতে নির্মিত ইটের ওয়াল এবং এজমালী কবরস্থান অপদখলের হাত থেকে বাঁচার জন্য গত ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত নওগাঁয় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যাহার মামলা নং০২পি /২০২০।

এদিকে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত কিয়ামতুল্লার ছেলে বাদীর আপন ভাই দেলোয়ার হোসেন (৫৫), হাফিজুর রহমান (৪০), দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী জিন্নাতুন বেগম (৪৫), দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে রিক্তা আক্তার বেগম ( রিক্তা) (২৫), এবং বিউটি খাতুন (২০) সহ ৭/ ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তি সঙ্গবদ্ধ হয়ে আদালতের নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উক্ত জমির ইটের ওয়াল ভেঙ্গে টিনের ব্যাড়া দিয়ে এজমালী করবস্থান জবর দখল করে ঘর নির্মাণের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে মামলার বাদী আশরাফ আলী জানান।

সরেজমিনে প্রতিপক্ষের লোকজন জানায়,বিবাদমান জমিটির দলিল, খতিয়ান এবং খাজনা খারিজের মাধ্যমে জমির প্রকৃত হকদার আমরাই। অথচ, মনগড়া সিদ্ধান্তের কারণে এবং আইনি জটিলতায় ইতিপূর্বে জমিটি মামলার বাদী আশরাফের দখলেই ছিলো। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। তবে জমিটিতে আমরাই ব্যাড়া লাগিয়েছি, আর সেজন্য আমরাই দোকান ঘরের গোডাউন নির্মাণ করতেছি। কাগজ পত্রে পেলে আমরা বিবাদমান জমিটির দখল ছেড়ে দিবো।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, বিবাদমান জমির কবরস্থান দখলের ব্যাপারে আমি অবগত নই। তবে যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।