আসা এবং যাওয়া

–গোলাম কবির

কখনো মনে হয় জীবন
এতো দীর্ঘ হলো কেনো?
ইচ্ছে গুলো ডানা ভাঙা
ধূসর শালিকের মতো
বসে বসে ধুঁকতে থাকে,
হাঁপরের গনগনে আগুনে
পুড়ে যায় মোরগফুলের
মতো সকাল,
প্রখর রোদ্দুরে নিঃসঙ্গ
পার্কে বসে
ঝিমানো অর্থহীন মধ্য
দুপুর,
সন্ধ্যাবেলায় বস্তির স্বল্প
আলোয় পড়তে বসা
রোগাপটকা শরীরের
বালকের স্বপ্ন গুলো
অকস্মাৎ নিভে যায়
পেট নামক রাক্ষসের
দু’বেলা আহার যোগাতে,
নদী গুলো দেখতে
দেখতে সরু হতে থাকে
আর এর জল টলটলে
স্বচ্ছতা হারিয়ে
হয়ে যায় দূর্গন্ধযুক্ত
কালো,
শহরের প্রবীণ বৃক্ষ গুলো
লোভী মানুষের হাতে ধ্বংস হতে
থাকে, বাতাসে
অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে শ্বাস অযোগ্য হয়ে যায়,
মানুষ গুলোকে বড়ো বেশি স্বার্থপর
এবং যান্ত্রিক মনে হয়।

কখনো কখনো আবার
এমনও মনে হয়
জীবন এতো ছোটো হলো
কেনো?
সন্তানের দিকে তাকিয়ে,
জীবনকে ভালোবেসে,
শিশুদের সরল হাসিকান্না,
ওদের খেলাধূলা করা,
অকারণ অভিমানে গাল
ফোলানো ইত্যাদি দেখে
দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে
সাধ হয়,
মনে হয়
আরো তো বুড়ো
হওয়া যায়,
কি এমন বয়সই বা হলো!
না হয় চুল গুলো পড়ে
গেছে কমবেশি,
দাড়ি ও না হয় পাকলো,
তাতে কি?
এখনো তো কখনো
কাস্তের মতো আবার
কখনো বা ভরা পূর্ণিমার
রাত দেখতে পাই,
ফুল ফুটতে দেখি,
বৃষ্টিভেজা বেলি ফুলের
সুমধুর ঘ্রাণে আকুল হই,
নীল সাদা আকাশ দেখে
উদাস হই আবার কখনো
বা কালো মেঘে ঢাকা
আকাশ অন্ধ করা দিনে
তুমুল বৃষ্টি দেখে
মন খারাপ করি! তখন
মনে হয়
ওপর থেকে তিনি মুচকি
হেসে কানে কানে বলেন –
আসা এবং যাওয়া
আমারই কৌটায় বন্দী
থাকে, এখানে তোমার
কোনো ভূমিকাই নেই।