ডিবি’র সালাউদ্দিনের বাসায় ৯ লাখ টাকাসহ ৫ হাজার ইয়াবা ও উদ্ধার,গ্রেফতার ১

 

প্রেসবিজ্ঞপ্তি (র‌্যাব-১১): বরখাস্তকৃত এসআই সালাউদ্দিনের বাসা থেকে র‌্যাব ৫হাজার ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৯লাখ টাকাসহ সুমন নামে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে। র‌্যাব গত ২৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী ও শহরের নগর খানপুর এলাকায় ডিবি পুলিশ থেকে বরখাস্তকৃত এসআই সালাউদ্দিনের দুইটি ভাড়া বাসা থেকে ৫হাজার ৬২০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৯ লাখ ৪শত টাকা উদ্ধার করে। কদমতলীর বাসা থেকে সালাউদ্দিনের সহযোগি সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় সালাউদ্দিন পালিয়ে যায়।
মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র‍্যাব-১১ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা হতে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় পাইকারী ব্যবসায়ী হিসেবে সালাউদ্দিনের নাম উঠে আসে। যে নিজের প্রাইভেট কারে ইয়াবা বিক্রেতাদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেয়। কয়েকদিন আগে গোপণসূত্রে কদমতলী এলাকায় ফ্রেন্ডস টাওয়ারে সালাউদ্দিনের একটি ভাড়া বাসার সন্ধান পাওয়ার পর র‍্যাব-১১ ঐ বাসার উপর নজরদারী শুরু করে।

পরবর্তীতে গত ২৩ জুলাই ২০১৮ তারিখ রাতে কদমতলীর ফ্রেন্ডস টাওয়ারের ভাড়া বাসায় সালাউদ্দিনের অবস্থান জানতে পেরে র‍্যাব-১১ অভিযান চালায়। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সালাউদ্দিন ও তার ড্রাইভার জাসিম পালিয়ে গেলেও, তার সহকারী সুমন গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত সুমনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাসার মালিক আলমাস ও কেয়ার-টেকারকে সাথে নিয়ে সালাউদ্দিনের বাসায় তল্লাশী চালিয়ে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৮,৫০,৪০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে শহরের নগরখানপুর এলাকায় সালাউদ্দিনের অপর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ৫০হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিন পুলিশের ডিউটির ধরণ, মাদক বিরোধী অভিযানের পদ্ধতি সহ অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশের কর্মকৌশল সম্পর্কে ধারণা থাকায় সে আইন শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে সহজেই মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে ।

গ্রেফতারকৃত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও টাকার মালিক সালাউদ্দিন পুলিশের একজন বরখাস্তকৃত এএসআই। মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রায় ৭ মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে বরখাস্ত হয়। সেই থেকে সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়। পলাতক হলেও সে এখনো নারায়ণগঞ্জ ডিবি’র অফিসার পরিচয় দিয়ে চলে। স্থানীয় লোকজন তাকে সালাউদ্দিন স্যার ও ডিবি স্যার হিসেবে চিনে। ইতোমধ্যে সে মাদক ব্যবসা করে অগাধ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছে। নিজ মালিকানাধীন ৩টা প্রাইভেটকার রয়েছে যেগুলো ইয়াবা পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। জাসিম, ওসমান ও বাহাদুর নামের তিনজন ব্যক্তিগত ড্রাইভারও আছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে “জেন্টস পার্লার” নামক বিউটি পার্লার। মাদক ব্যবসার আর্থিক হিসাব দেখাশোনার জন্য রয়েছে রয়েছে ব্যক্তিগত সহকারি। গ্রেফতারকৃত সুমন বেতনভোগী কর্মচারি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারির দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাসিম, ওসমান ও বাহাদুর প্রাইভেটকারে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত ইয়াবা পৌঁছে দেয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। সুমন সালাউদ্দিনের নির্দেশ মতে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহণের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে থাকে।