আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাইরে’ শ্লোগানে ঘুড়ি উৎসবে নগরবাসী

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাইরে’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঘুড়ি উৎসবে মেতে উঠলো নারায়নগঞ্জবাসী। এসময় সাংস্কৃতিক শিল্পীদের ঢাক-ঢোল ও বাদ্য-বাজনার শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়াম মাঠে। শত শত শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা মেতে উঠেন উৎসবের আনন্দে। নাটাই ঘুড়ি হাতে পেয়ে ছেলেবেলার স্মৃতিতে ফিরে যান প্রবীণ ব্যক্তিরা। সবার চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়ে মুগ্ধতা ও আনন্দময় অনুভূতির ছোঁয়া।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে শহরের জিমখানা এলাকায় আলাউদ্দিন খান স্টেডিয়াম মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে সব বয়সের অর্ধশতাধিক প্রতিযোগি নানা রঙ বেরঙের ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

বিকেল তিনটায় নারায়ণগঞ্জ ঘুড়ি উৎসব উৎযাপন পর্ষদের আয়োজনে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ঘুড়ি উৎসব ও প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চিল ঘুড়ি, বাক্স ঘুড়ি, পেঁচা ঘুড়ি, হাতি ঘুড়ি, মানুষ ঘুড়ি ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আকৃতিসহ দেশী-বিদেশী নানা বৈচিত্রময় ও বিভিন্ন রঙ বেরঙের ঘুড়িতে ছেয়ে যায় নীল আকাশ।

এনটিভির জেলা প্রতিনিধি নাফিজ আশরাফ বলেন, ছোট বেলায় আমিও ঘুড়ি উড়িয়েছি। আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে। গ্রামে সব ধরণের খেলাধুলা অংশ গ্রহণ করেছি। খেলাধুলা আমাদের জীবনের একটা অংশ। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ছিলো এখন শহরে নগর জীবনে তা আর দেখা যায় না।

নারায়ণগঞ্জ ঘুড়ি উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক  জাহিদুল হক দীপু জানান, কালের বিবর্তনে বিলুপ্তপ্রায় এক সময়ের জনপ্রিয় ঘুড়ি খেলাকে আবার সমাজে ফিরিয়ে আনতে এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন। এছাড়া যুবসমাজ এক সময় খেলার মাঠে ঘুড়ি উড়িয়ে সময় কাটোতো। এখন মাঠ না থাকা এবং ঘুড়ি খেলা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় আমাদের তরুণ ও যুবসমাজ সময় কাটাতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে ঘুড়ি খেলা সহ অন্যান্য দেশীয় সংস্কৃতির খেলার আয়োজনের বিকল্প কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন।

দীপু আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বহুতল অট্টালিকা ইমারতের কারনে নগরের মানুষ আকাশ দেখতে পায় না। এছাড়া পরিবেশ ও বায়ু দূষণে মানুষের অস্তিত্ব বিপন হওয়ার পথে। ঘুড়ি আমাদের প্রকৃতির কাছে নিয়ে যায় প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে। এজন্য আমাদের এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন।পাশাপাশি এই ধরণের ভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে খেলার মাঠগুলোকেও ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল প্রমুখ।

সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে উপহার ক্রেস্ট প্রদান করেন আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তারা। পরে চমৎকার আতশবাজি ও ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়।