“বাঁচাও নদী, বাঁচাও মানুষ, বাঁচাও দেশ”

আজকের নারায়নগঞ্জঃ   “বাঁচাও নদী, বাঁচাও মানুষ, বাঁচাও দেশ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নদী রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও অন্দোলন কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দরা। কলকারখানার দূষণ এবং ভূমিদস্যুদের কবল থেকে নদী বাঁচাতে গোটা জেলাব্যপী অনুষ্ঠান কর্মসূচীর আয়োজন করেছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর তল্লা এলাকায় বিবি মরিয়ম উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও অন্দোলন কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি কবি জামান ভূইয়াঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও অন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও অন্দোলন কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন বিবি মরিয়ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। নদীকে কেন্দ্র করেই দেশের অনেক স্থানে শহর, নগর, বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নদী আমাদের মা, এই নদীকে কেন্দ্র করেই আমরা বেঁচে আছি। এই নদীর সাথে জড়িয়ে আছে অনেকের জীবিকা। জীব বৈচিত্র, কৃষিক্ষেত্রে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু অসাধু কিছু মানুষের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ দূষিত হচ্ছে কলকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে নদী। এতে করে দেশ ও ভবিষ্যত প্রচন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মখে পতিত হচ্ছে। তাই ভবিষ্যরে কথা চিন্তা করে আমাদের যে কোন মূল্যে নদী বাঁচাতে হবে। এর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ অতি জরুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আকরাম আলী শাহীন বলেন, পানির অপর নাম জীবন। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশে পানির বিভিন্ন উৎস রয়েছ। যার মধ্যে নদী অন্যতম। এই নদ-নদীর সাথেই জড়িয়ে আছে আমাদের জীব বৈচিত্র এবং কৃষি কাজ। কিন্তু কলকারখানার বর্জ্য পদার্থে নদ-নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে নদী হারাচ্ছে তার গতিপথ। এসব বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। শুধু সচেতনতাই নয়, নদী রক্ষার্থে আমাদের কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যেই নদী বাঁচানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের উপড় বর্তায়, সেই সিটি করপোরশেনই রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় নদীতে অবাধে ময়লা আবর্জনা ফেলছে। এসময় তিনি বিষয়টি নজরে এনে ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৭ বছর ধরে দেশের নদ নদীগুলোতে পলিথিনের কাগজ জমা পড়েছে ১৭৮ কোটি টন। এসব পলিথিন নদীর নাব্যতা হারিয়ে নদীতে ¯্রােতহীন করে তুলে। বর্তমানে সরকার অস্তিত্ব সংকটে পড়া নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত দশ বছরে নদী রক্ষায় ৪০ দফা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আশপাশের নদী গুলো কলকারখানার বিষাক্ত ক্যমিকেল এবং ভূমিদস্যুদের দখলের হাত থেকে রক্ষার্থে কাজ করছে। আমাদেরও উচিত সবাইকে সচেতন করে নদী রক্ষার্থে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা। কেননা নদী বাঁচলে আমরা বাঁচবো।

স্বাগত বক্তব্যে শফিউল আলম খান বলেন, বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হলেও দেশের মানচিত্র থেকে অনেক নদীই হারিয়ে গেছে। অনেক নদী তাদের নাব্যতা হারাচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এধরণের ঘৃণ্য কাজ করে দেশ ও দেশের মানুষকে অদূর ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে কবি জামান ভূইয়াঁ বলেন, ক্ষমতাসীণদের অনেকেই নদ-নদী দখলের সাথে যুক্ত। যখন যেই সরকার ক্ষমতায় আসে, দুষ্ট কিছু লোক তার ফায়দা লুটে। বর্তমান সরকার নদী রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমাদের উচিত নদী বাঁচাও আন্দোলনের দাবীগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া। যাতে করে মানুষ সচেতন হয়ে নদী বাঁচাতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন, হাজী আয়েত আলী ভূঞাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা পারভীন, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও অন্দোলন কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক গাজী মাসুদ খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম সাহা, দপ্তর সম্পাদক ডা. কাজী মোমেন, কার্য নির্বাহী সদস্য হাজী সানাউল্লাহ মোরশেদ এবং তারাবো শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক প্রমুখ।