এবার মৌসুমীকেও হারালো মিশা সওদাগর,সর্বোচ্চ ভোট ডিপজলের

বিনোদন(আজকের নারায়নগঞ্জ):সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগাম অভিনন্দনের বন্যায় ভাসলেও শেষ পর্যন্ত মিশা সওদাগরের কাছে নির্বাচনে হেরে গেলেন মৌসুমী। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদে আবারো সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর। এ ছাড়াও তার নেতৃত্বে পুর্ণ প্যানেল বিজয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে বিগত নির্বাচনে নায়ক ওমর সানিকে হারিয়ে ২০১৭-২০১৯ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মিশা সওদাগর।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) উৎসাহ-উদ্দীপনায় দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে রাতে চলে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগণনা। এফডিসিতে নায়ক মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনে বসানো হয় মনিটর। যে কক্ষে ভোটগণনা হচ্ছিল, সবাই তার যাবতীয় প্রত্যক্ষ করেন স্ক্রিনে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ, চলে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। সারাদিন এফডিসিতে বসে তারকার হাট। রাত ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে মিশা সওদাগর-জায়েদ খানের পুরো প্যানেলই জয়ী হয়েছে। ভোটার ছিলেন শিল্পী সমিতির ৪৪৯ জন সদস্য। এর মধ্যে ৩৮৬টি ভোট পড়েছে। কার্যনির্বাহী পদে বৈধ ব্যালট ৩৫৭, বাতিল হয়েছে ২৯ ব্যালট। সম্পাদকীয় পদে বৈধ ব্যালট ৩৫২,বাতিল হয়েছে ৩৪।
সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ভোট পেয়েছেন ২২৭ আর মৌসুমী পেয়েছেন ১২৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান পেয়েছেন ২৮৪ ভোট, ইলিয়াস কোবরা পেয়েছে ৬৮ ভোট। সহসভাপতির দুটি পদে জিতেছেন চিত্রনায়ক রুবেল ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ডিপজল পেয়েছেন ৩১১ ভোট, রুবেল পেয়েছেন ২৯৩ ভোট, আর নানা শাহ পেয়েছেন ৯৮ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক পদে জিতেছেন আরমান, তিনি পেয়েছেন ২৮১ ভোট। আর এ পদে সাংকো পাঞ্জা পেয়েছেন ৭১ ভোট। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে জিতেছেন মামনুন ইমন, তিনি পেয়েছেন ২৪৭ ভোট, আর নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ১০৫ ভোট। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জিতেছেন জাকির হোসেন, তিনি পেয়েছেন ২৩০ ভোট; আর ডন পেয়েছেন ১২২ ভোট।
এবার সমিতির ২১টি পদের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে ১৮টি পদের। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাকি তিন পদের প্রার্থীকে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁরা হলেন সুব্রত (সাংগঠনিক সম্পাদক), জ্যাকি আলমগীর (দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক) ও ফরহাদ (কোষাধ্যক্ষ)।
কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদেই জিতেছেন মিশা-জায়েদ প্যানেলের সদস্যরা। ১১টি পদের জন্য প্রার্থী ছিলেন ১৪ জন। এঁদের মধ্যে মিশা-জায়েদ প্যানেলের প্রার্থী অঞ্জনা সুলতানা ৩২৪ ভোট, রোজিনা ৩২০ ভোট, অরুণা বিশ্বাস ৩১৫ ভোট, আলীরাজ ৩৩৬ ভোট, আফজাল শরীফ ২৯৩ ভোট, বাপ্পারাজ ৩০১ ভোট, আসিফ ইকবাল ৩১৪ ভোট, আলেকজান্ডার বো ৩৩৭ ভোট, জেসমিন ৩০৯ ভোট, জয় চৌধুরী ৩০৩ ভোট ও মারুফ আকিব ২৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
বাকি তিনজন রঞ্জিতা ১২১ ভোট, নাসরিন ১৮১ ভোট ও শামীম খান (চিকন আলী) ২০৩ ভোট পেয়ে হেরেছেন।