সেই গাউছুল আজমের অভিযান,চাঁদমারীতে১২ মাদক বিক্রেতা আটক

আজকের নারায়নগঞ্জঃ  নারায়নগঞ্জের মাদকের আখড়া নামে পরিচিত চাঁদমারি বস্তিতে মাদক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে র‌্যাব। এ সময় বেশ কিছু মাদক উদ্ধারসহ ১২ জন মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‌্যাব।

সদর দপ্তরের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মো: গাউছুল আজমের নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তিন ঘন্টাব্যাপী র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত এ অভিযান চালায়। পরে আটককৃত মাদক বিক্রেতাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান সহ উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যগুলো পুঁড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বস্তিবাসীরা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোেেডর চাঁদমারি বস্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের ভ্রাম্যমান আদালত নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১ এর একটি দলকে সাথে নিয়ে অভিযান চালায়। এসময় বস্তির বিভিন্ন ঘর তল্লাশি করে ৫৪ পুড়িয়া (প্যাকেট) গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত অভিযোগে ময়না, দ্বীন ইসলাম, পান্না মিয়া, জরিনা, আমান, শরিফুল, হারুনুর রশিদ, মনির হোসেন, আবদুল আজিজ, রাসেল, রমজান আল এবং কাজল নামের ১২ মাদক বিক্রতাকে আটক করে।

এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত মাদক ব্যবসার মদদদাতা এবং নিয়মিত মাসোহার আদায়কারীদের নামের তালিকার একটি ডায়েরিও উদ্ধার করে। এই তালিকায় ফতুল্লা থানা পুলিশ, কোর্ট পুলিশ, টহল পুলিশ, সাংবাদিক, ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের আবগারী শুল্ক বিভাগের কিছু লোকজনের নামও এই তালিকায় রয়েছে।

বস্তিবাসীদের অভিযোগ, স্থানীর কয়েকজন গডফাদার এবং প্রশাসনের লোকজনের শেল্টারেই এখানে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা গেলে এখানকার মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।

আটককৃত মাদক বিক্রেতা ময়না জানায়, স্থানীয় সোহরাব এবং মোহাম্মদ নামের দুইজন এই বস্তির মাদক ব্যবসার গডফাদার। তারা প্রতিদিনি দুইহাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিয়ে যায়। তাদের সাথে আরো বেশ কয়েকজন সহযোগী এই মাদকের চাঁদাবাজির তালিকায় রয়েছে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মো: গাউছুল আজম জানান, এই অভিযানে বড় ধরনের চার মাদক বিক্রেতাসহ মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৪ জনকে ১ বছর করে এবং ৬ জনকে ৬ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

আরো দুইজনকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, মাদকের গডফাদার ও মদদদাতারা মূলত কয়েকজন নারী বিক্রেতাকে দিয়ে এখানে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এন মাদক নির্মূল করা হবে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।