স্বপনকেও খুনের পর ৭ খন্ড করে নদীতে ভাসায় পিন্টু ও রত্না !

আজকের নারায়নগঞ্জঃ অবশেষে নিখোঁজ স্বপন কুমার সাহার হদিস মিলেছে। তবে জীবিত নয়,তাকেও একই কায়দায় সাত খন্ডে খন্ডিত করে শীতলক্ষায় ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রবীর ও স্বপনকে খুন করার পরিকল্পনায় ২১মাস আগেই স্বপনকে খুন ও গুম করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় পিন্টু-স্বপন ও প্রবীরের প্রেমিকা সিরিয়াল খুনের অংশীদার রত্না রানী কর্মকারের মাসদাইরের বাসায়। ১৮ জুলাই রাতে পিন্টু ও রত্নাকে নিয়ে সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত শিলপোতা,বটি,রক্তাক্ত তোষক ও চাদর উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত রত্নার দেয়া তথ্যমতে,  তার ফ্ল্যাটেই স্বপনকে প্রথমে শিলপোতা দিয়ে অচেতন করে পরবর্তীতে গোসলখানায় নিয়ে বটি দিয়ে ৭ টুকরো করা হয়। পরে সুবিধামত সময়ে ব্যাগে ভরে শীতলক্ষায় ফেলে দেয়া হয়। তার মোবাইলগুলো এতদিন তার কাছেই ছিল। স্বপনও ভারতে পালিয়ে গেছে বলে প্রচার করা হয়।

কেন স্বপনকে খুন করা হলো, ২০১৬ সাল থেকেই পিন্টু দেবনাথকে হুমকী দেয়া হচ্ছিল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবে। এ ছাড়াও স্বপন ও প্রবীর কৌশলে তার দোকান ও ভারতে কেনা ফ্ল্যাটবাসা হাতিয়ে নেয়ারও পায়তারা শুরু করেছিল তারা। এতে ঘিয়ে আগুন ঢেলে দেয় আমলাপাড়ার কথিত বড় ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন মোল্লা। এ ঘটনার পর থেকেই প্রবীর ও স্বপনকে খুন করার পরিকল্পনা ছিল পিন্টু দেবনাথের। তাকে সহযোগিতা করে আসছে তাদেরই পরকীয়া প্রেমিক রত্না রানী কর্মকার ।
এরই ধারাবাহিকতায় একই কায়দায় ভারতে পালিয়ে যাওয়া কিংবা নিখোঁজ নাটকের পর্ব চালিয়ে এলাকাবাসীর নজর এড়ানোর কৌশল নেয় সিরিয়াল খুনী পিন্টু দেবনাথ। প্রথম অবস্থায় স্বপনকে খুন ও গুম করে পার পেয়ে যাওয়ার সাহস থেকেই প্রবীরকে দুনিয়া থেকে সরানোর পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের উদ্যোগ নেয় তারা। প্রবীরকে খুন করার পর দীর্ঘক্ষন রত্নার সাথেই কথা বলে ঘাতক পিন্টু। কিন্তু তার কর্মচারী বাপনের কাছে দেয়া প্রবীরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনই খুন ও নিখোঁজসহ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গল্প ফাঁস হয়ে যায়।
স্বপন হত্যার সূত্র যেভাবে পাওয়া গেল স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে। সে ছিল নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তার ঘাতক পিন্টু দেবনাথের বন্ধু।
২০১৬ সনের ২৭ অক্টোবর কাশিপুর গোয়ালন্দ বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোজের ১১দিন পরে ৬ নভেম্বর তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী দায়ের করেন
প্রবীর ঘোষ হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়ে বড় যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ডিবির হাতে আসে তা হচ্ছে প্রায় ২ বছর আগে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমারকে প্রথমে গুম ও পরে তাকে হত্যার তথ্য। প্রবীর হত্যার প্রধান আসামী পিন্টুকে গ্রেপ্তারের পর স্বপনের পরিবারের কাছে সন্দেহ হলে তারা ডিবিকে জানায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পিন্টু তার পরকীয়া প্রেমিকা রত্না রানী কর্ম কার তথ্য পায়। রত্নার কাছে স্বপনের ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল উদ্ধার করে ডিবি। সেই মোবাইলের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় মামুনকে।
স্বপনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্বপন প্রথমে কাপড়ের ব্যবসা করলেও পরবর্তীতে পাসপোর্টের দালালি শুরু করে। প্রতিদিন স্বর্ণপট্টিতে খোকন নামে কোনো একজনের চায়ের দোকানে আড্ডা জমাতো সে। সেখান থেকেই পিন্টু ও মামুনের সাথে পরিচয় ঘটে স্বপনের। মামুনের বড় ভাই এর মতেও ব্যবসায়ীক কোনো কারণে নয়, এই আড্ডা থেকেই তাদের পরিচয় হয়।
স্বপন হত্যার কারণ
মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা স্বপন না দিয়ে বরং হুমকি দিচ্ছিল। এসব কারণে ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া ও প্রবীর ও স্বপন মিলে তার দোকান ও ফ্লাট হাতিয়ে নিবে বলে প্রবীর ও স্বপনের নামে নেতিবাচক কথা বলতে থাকে পিন্টুর কাছে। তখন থেকেই স্বপন ও প্রবীরের প্রতি ক্ষোভ জন্মাতে থাকে পিন্টুর এবং তাদেরকে হত্যার পরিল্পনা করতে থাকে ।
একই ভাবে প্রবীর হত্যা
পিন্টু ডিবির কাছে স্বীকার করে মামুন তাকে নিজে আলাদা ভাবে ডেকে বলেছিলো প্রবীর তার বন্ধু কি না? তখন পিন্টু বন্ধু হিসেবে স্বীকার করে। তখন মামুন পিন্টুকে উত্তেজিত করার জন্য পিন্টুর সামনে প্রবীরকে ফোন দিয়ে একই প্রশ্ন করলে সে বন্ধু হিসেবে প্রবীরকে অস্বীকার করে এবং তাকে নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার জন্য মামুনকে বলে। তখন থেকেই স্বপন কুমার সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করে পিন্টু। মূলত স্বপন ও প্রবীরকে হত্যার জন্য পিন্টুকে প্ররোচনা দেয় মামুন নিজেই।