জুয়া কেলেঙ্কারীর ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই এসপি হারুনের পাশে জুয়াড়ি তাপু !

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: ফতুল্লার ইউনাইটেড ক্লাবের জুয়া কেলেঙ্কারীর ৪৮ঘন্টা না পেরুতেই জুয়ারী তাপুকে এক মঞ্চে দেখা গেছে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীরে পাশে দেখে বিস্মিত এলাকাবাসী। শুধু বক্তৃতা আর শুভেচ্ছা বিনিময়ই নয়, এক মঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় নাচ-গানও উপভোগ করেছেন পুলিশ সুপার। এসময় পুলিশ সুপারের সাথে আসা পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

শনিবার(৫ অক্টোবর) রাতে পঞ্চবটি হরিহর পাড়া এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসপি হারুন অর রশীদের সাথে একমঞ্চে ছিলেন ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি জুয়াড়ি  তোফাজ্জল হোসেন তাপু।

মাত্র ৪৮ঘন্টা আগে যে ক্লাবে জুয়া আর মদের সন্ধানে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে জুয়ারীদের গ্রেফতার করেছে,সেই ক্লাবের গ্রেফতারকৃত জুয়ারী আর কর্মকর্তাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারের উপস্থিতি হতবাক করেছে স্থানীয় শত শত মানুষকে। এলাকাবাসী বলছেন, দুষ্টের দমন কখনওই সম্ভব নয়, যদি সর্ষের মধ্যেই ভুত থাকে। তারা বলেন অর্থই সকল অনর্থের মূল।

অপরদিকে এই ঘটনার পর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ফতুল্লা থানার ওসি বা কর্তাদের তো বিষয়টি অবশ্যই জানার কথা, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তির ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তাদের তো আমাদের ইনফর্ম করা উচিত ছিল। বিশেষ করে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) মাঠকর্মীরা তো এখানে ছিল, তারাও তো আমাদের এব্যাপারে কিছু বললো না। বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখবো।

স্থানীয় মুরুব্বীরা জানান, ইউনাইটেড ক্লাবের অভিযানের কথা শুনে আমরা পুলিশ সুপারের জন্য দোয়া করেছি। এই ক্লাবের জন্য এলাকার যুবকরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এখানে শুধু জুয়া খেলাই হয়না, মদ বিয়ারের মত মাদক গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। তাপু গ্রেফতারের পর ভেবেছিলাম এসব বন্ধ হবে।

প্রসঙ্গত: ফতুল্লায় ‘শিল্পপতিদের ক্লাব’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত) এর জুয়ার আসর থেকে গ্রেফতার ও অভিযান ছিল টক অব দ্যা টাউন। বৃহস্পতিবার রাতে ডিবির অভিযানের পরে বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়। অন্য অভিযানের পরেই পুলিশের পক্ষে দ্রুত সংবাদ মাধ্যমকে খবর সরবরাহ করা হলেও সেটা প্রকাশ করতে কিছুটা গড়িমসি করে পুলিশ। বিকেলে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই সময়ে খবর রটে যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটককৃতরা মুক্তির চেষ্টা করেন। কয়েকজনের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে আপোষেরও চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষতক পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ কোনভাবেই জুয়ার সঙ্গে আপোষ চলবে না সাফ জানালে ৭ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।

অভিযান চালানো ডিবির কর্মকর্তারা জানান, ক্লাবের ভেতরে কয়েকটি ভিআইপি রুম আছে। সেখানে সকলের প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা আছে। বিশেষ কার্ড পান্স করেই ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। রাতে ক্লাবের মূল ফটক তালা মারা থাকে। নিচতলায় কমিউনিটি সেন্টার আছে। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দেওয়ার কথা বলে ডিবি কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করে।

সেখান থেকে ৭ জুয়ারী গ্রেফতারের পর মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে বিকালেই ২‘শ টাকা জরিমানা দিয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও এলাকায় চলে আসে তাপুসহ ৭ জুয়াড়ি।