ফতুল্লার ইউনাইটেড ক্লাবে জুয়ার আসরে পুলিশী অভিযান

 ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ফতুল্লায় এলিট শ্রেণির ক্লাব বলে পরিচিত ইউনাইটেড ক্লাবে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম। অভিযানে ক্লাব সভাপতি শিল্পপতি তোফাজ্জল হোসেন তাপুসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার(৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড এসোসিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডে ওই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩ বান্ডিল কার্ড ও নগদ ২০হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। 

জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং বিশেষ শাখার (ডিএসবি) ডিআইও-টু সাজ্জাদ রোমন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জুয়া আইনে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অন্যান্যরা হচ্ছে তোফাজ্জলে হোসেন তাপু(৫৫) পিতা মৃত আঃ মজিদ মিয়া,ইকবাল হোসেন(৫৬) পিতা এম এ কুদ্দুস, কামাল হোসেন (৪৯) পিতা আবুল হাসেম,শামসুজ্জামান পিতা মৃত আবদুল হাই, মোস্তাফিজুর রহমান পিতা মৃত আঃ জব্বার,এবিএম শফিকুল ইসলাম পিতা মৃত ওবায়দুল হক ভূইয়াঁ,আফজাল হোসেন পিতা- মৃত আঃ মালেক

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইউনাইটেড ক্লাবটি আগের সবার জন্য হলেও এখন এটি এলিট শ্রেণিদের জন্য। সমাজের শিল্পপতি, বিত্তবানরাই এই ক্লাবে আসেন এবং শেষ রাত পর্যন্ত অনেকেই অবস্থান করেন। ক্লাবের ভেতরে ভিআইপি একটি রুম রয়েছে। সেখানে লিস্টেট লোকজনই যেতে পারে। নিজেদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়া অন্যরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না। থাকে কড়া সিকিউরিটিও।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ক্লাবটির ওই ভিআইপি রুমটিতে নির্দিষ্ট লোকরাই বসেন। তবে, কি করেন সেখানে মধ্যরাত, শেষ রাত পর্যন্ত তা নিশ্চিত হতে না পারলেও তারা সেখানে জুয়ার আসর জমান, মদ পান করেন বলেই মনে করা হয়। এছাড়াও এখানে যারাই তাদের অতিথি হিসেবে আসে প্রত্যেকেই দামি দামি গাড়িতে করে আসে, প্রতিটি গাড়িতেই থাকে কালো গ্লাস লাগানো।

সূত্র থেকে আরও জানায়, ডিবি পুলিশের অভিযানের ঠিক পাঁচ কি দশ মিনিট আগে ক্লাব থেকে বের হয়ে আসেন বন্দর উপজেলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। তাকে ফতুল্লা অঞ্চলে ব্লাক দেলু, এনজিওয়েল দেলু, তেল চোরাই দেলু হিসেবেই চিনে। এই তিনিই ইউনাইটেড ক্লাবের মধ্যে বিত্তবানদের জন্য বিশাল জুয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে সূত্র জানায়।

অন্যদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, যারা আটক হয়েছেন তারা প্রায় সকলেই সমাজের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি এবং সমাজপতিও। এদের আটকের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকটি স্থান থেকে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যাপক তদ্বির শুরু শেষ রাত থেকেই। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাপক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।