এবার স্বপন নিখোঁজের ঘটনায় রিমান্ডে মুখোমুখি পিন্টু-বাপন

আইন-আদালত ডেস্কঃ এবার নিখোঁজ স্বপন দাসের মামলায় কালির বাজারের আলোচিত সোনা ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যায় গ্রেফতার পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিককে আবারও ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

প্রায় দু’বছর আগে নিখোঁজ হওয়া স্বপন দাস মামলায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার (১৮ জুলাই) সকালের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে ১০ রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রবীর ঘোষ নিখোঁজের ঘটনায় ৯ জুলাই আটক করা হয় পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক ওরফে বাবুকে। এদিন রাতেই তাঁদের মধ্যে পিন্টুর দেখানো মতে আমলাপাড়া এলাকার ঠান্ডা মিয়ার বাড়ি থেকে প্রবীরের ৫ টুকরো মরদেহ এবং পরের দিন পাশর্^বর্তী বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে ২টুকরো মরদেহাংশ উদ্ধার করে ডিবি।

এ ঘটনায় ১০ জুলাই আদালত থেকে উভয়কে ৫ দিন করে রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ড শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন পিন্টু। এখানে তিনি দাবি করেছেন প্রবীর ঘোষকে সে একাই হত্যা করে।

এদিকে এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিন্টুর সাবেক কর্মচারি বাপন ভৌমিককে দ্বিতীয় দুফায় আরও দুদিনের রিমান্ডে নেয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ পর্বে রিমান্ডে বাপন বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় পুলিশকে। এরমধ্যে সে জানায় এর আগেও স্বপন দাস নামক নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে ঠাণ্ডা মিয়ার বাড়ির একই ফ্ল্যাটে হত্যা করা হয়েছিলো। এই হত্যার পর স্বপন দাসের মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া হয় শীতলক্ষ্যায়।

এদিকে পিন্টুর স্বীকারোক্তিতে প্রবীর হত্যায় প্ররোচনাকারি হিসেবে আমলা পাড়ার মামুন মোল্লার নাম ওঠে আসে এবং বাপনকে জিজ্ঞাসাবাদের ওঠে আসে পিন্টুর পরকীয়া প্রেমিক রত্না চক্রবর্তীর নাম। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ আমলা পাড়া থেকে মামুনকে প্রবীর হত্যায় এবং মাসদাইর থেকে স্বপন দাস নিখোঁজের ঘটনায় রত্না চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। আদালত থেকে তাঁদের দুজনকে ৩ দিন করে রিমান্ডে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রবীর হত্যর রহস্য ভেঁদ করতে গিয়ে স্বপন দাসের বিষয়টি সামনে চলে আসায় এ ঘটনায় স্বপনের বড় ভাই অজিত সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাপন, পিন্টু, রত্না ও মামুনকে আসামী করা হয়।

এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক ওরফে বাবুকে ১৮ জুলাই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ১৮ জুন একটি ফোনের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান সোনা ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিলো। তাঁর সন্ধান দাবি করে কালির বাজারের সোনা ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা বিক্ষোভ ও স্মারকলিপিও প্রদান করেছিলেন।