কে এই কথিত বড় ভাই মোল্লা মামুন ?

আজকের নারায়নগঞ্জঃ কথিত  ‘বড় ভাই’ আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুন । সে আমলা পাড়া এলাকার মৃত মহসিন মোল্লার ছেলে। মোল্লা মামুন কখনো কখনো নিজেকে র‌্যাব আর পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল তার । তাদের সঙ্গে কখনো চা পান কিংবা আলাপচারিতার বিষয়টিকে উপস্থাপন  করে এলাকাবাসী তথা স্থানীয় ব্যবসায়ীমহলকে  তটস্থই রাখার চেষ্টা করতেন। কেউ বিপদে পড়লে তাকে উল্টো দেখাতেন ভয়ভীতি। হাতিয়ে নিতেন মোটা অংকের টাকা।

তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি। ফেসেঁ গেছেন সেই পুলিশের কাছেই। নিহত প্রবীর ও সিরিয়াল কিলার পিন্টু দেবনাথের বিরোধে বড় ভাইগিরি দেখিয়ে ফায়দা লুটতে গিয়ে থমকে গেছে তার জারিজুরি।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ ও কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা হত্যার ঘটনায়  ইতোমধ্যে সে গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দী। রোববার রাতে তাকে শহরের আমলাপাড়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবির একটি সূত্র জানান,শহরের আমলাপাড়ার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ওই বড় ভাইটি। পিন্টু দেবনাথের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা।

প্রবীর হত্যার পাশাপাশি দুই বছরে খুন হওয়া স্বপন হত্যায়ও পরোক্ষ প্ররোচনাকারী হলেন এ বড় ভাই।  এই বড় ভাই হিসেবে স্বপন, প্রবীর ও পিন্টুর কাছে খ্যাত মামুন মোল্লা মুলত পিন্টুকে খেলনা পিস্তলের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করত। ডিবি পুলিশ তার সেই খেলনা পিস্তল জব্দ করেছে।
৯ জুলাই লাশ উদ্ধারের সময়ে ওই ব্যক্তি এগিয়ে এসেছিলেন ঘটনাস্থলে। ছিল তার মায়াকান্নাও। ওই ব্যক্তিকে তখন থেকেই ডিবি তাদের নজরবন্দী করে রেখেছে। যে কোন সময়ে তাকেও আটক করার পরিকল্পনা ছিল গোয়েন্দা পুলিশের।

২০১৬ সাল থেকেই আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। সে বলতো পিন্টুর ফ্লাট ও দোকান নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে প্রবীর ও স্বপন মিলে পিন্টুকে নারী দিয়ে ফাঁসিয়ে দিবে। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু।
পিন্টু জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে তার এক ‘বড় ভাই’ তাকে ডেকে নিয়ে প্রবীরের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, প্রবীর তোর বন্ধু না শত্রু? পিন্টু নির্দ্বিধায় প্রবীরকে বন্ধু বলে স্বীকার করলে ওই ‘বড় ভাই’ পিন্টুকে চড় মারে ও গালি দিয়ে বলে প্রবীর তোর বন্ধু না। এরপর ওই বড় ভাই প্রবীরকে ফোন করে মোবাইলে লাউড স্পিকারে পিন্টুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতেই প্রবীর বলেছিল, ‘ওরে মাইয়া লোক দিয়া… কইরা র‌্যাব দিয়া ধরাইয়া দেন দাদা। ওর টাকা পয়সা বাইরা গেছে, অর্ডারও বাইরা গেছে। ওর দোকানডা আমার লাগব।’
প্রিয় বন্ধুর মুখে এমন কথা শোনার পরই ক্ষোভ জন্মে পিন্টুর মধ্যে। শুধু প্রবীরই নয়, তাদের বন্ধু স্বপন, উত্তমসহ কয়েকজনের সঙ্গে ওই ‘বড় ভাই’ কথা বললে তারাও পিন্টু সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে।

ওই ‘বড় ভাই’ প্রবীরের হাত থেকে তার ব্যবসা বাঁচিয়ে দেবে বলে পিন্টুর কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকাও নিয়েছিল। মূলত, তখন থেকেই প্রবীরকে হত্যার পরিকল্পনা করে পিন্টু।

১৪ জুলাই বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ঘাতক পিন্টুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। ঘাতক পিন্টু আদালতকে জানিয়েছে, অর্থ, বন্ধকী স্বর্ণালংকার ও দোকান আত্মসাতের পরিকল্পনায় এবং ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সে নিজ বন্ধু প্রবীরকে হত্যা করেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদানকালে পিন্টু হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রবীরকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ৭ টুকরো করা এবং হত্যার আলামত গুম করার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে।