বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের স্বর্ণালঙ্কারে গরমিল !

আজকের নারায়নগঞ্জঃ  বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ পরীক্ষা করে ভয়াবহ অনিয়ম পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। স্বর্ণের চাকতি হয়ে গেছে মিশ্র ধাতু। ২৪ থেকে ২০ ক্যারেটের স্বর্ণের বেশিরভাগই এখন ১৮ ক্যারেটের।

মোট ৩ কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কারে গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানানো হয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইঁয়া।

২০১৫ সালে কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ একটি স্বর্ণের চাকতি এবং আংটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করলে তাতে স্বর্ণ পাওয়া যায় সাড়ে ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণের মান কমে যাওয়ার বিষয়ে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি একটি করণিক ভুলের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকটির প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তোলপাড় ফেলার পর বিকেল ৫টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হোসেন বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা করণিক ভুল। স্বর্ণ যখন শুল্ক গোয়েন্দার কাছ থেকে নেওয়া হয় তখন তাদেরকে বলা হয় ৪০। এটি ইংরেজিতে লেখার সময় বাংলা ৪০কে ইংরেজিতে 80 (৮০) লিখে ফেলা হয় এবং এতেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।’

রবিউল জানান, শুল্ক গোয়েন্দা থেকে স্বর্ণ নিয়ে আসার পর যখন আবার মাপা হয় তখন সেখানে ৪৬ শতাংশ স্বর্ণ পাওয়া যায়।

রবিউল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণ হেরফের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বর্ণ হেরফের হওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। কারণ, যিনি যে ভাবে জমা দিয়েছিলেন সে ভাবেই আছে বলে আমাদের প্রত্যয়নও করেছেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা শুল্ক গোয়েন্দার নিজস্ব রিপোর্ট। এই রিপোর্টের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মেশিনের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেশিনের মাপের পার্থক্য হয়। এই মেশিন নিয়ে সন্দেহ আছে এবং এ বিষয়ে আমরা লিখিত জবাবও দিয়েছি। যেসব স্বর্ণ নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার আবেদন করা হয়েছে।’