পরিকল্পিতভাবেই শাকিলকে খুন করে সারোয়ার

আজকের নারায়নগঞ্জঃ তুচ্ছ ঘটনার জের ধরেই খুন হয় হোসিয়ারী শ্রমিক শাকিল।   “ঈদের পূর্বে শাকিল ও সরোয়ার সাথে একটি বেসিনে হাত ধোয়া নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা তাঁদের উভয়ের মালিক সুমন ও নিরু মিটমাটও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে ঘটনা থেকে শাকিলের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে থাকে সরোয়ার। সেখান থেকেই এই খুনের পরিকল্পনা করে সে।”

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  এ কথাই স্বীকার করেছেহোসিয়ারি শ্রমিক শাকিলের খুনী ‘ঘাতক’ সরোয়ার।

এক সাথে বিশ্বকাপ খেলা দেখে এবং ইয়াবা সেবন করিয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে  শাকিল মিয়াকে। ।

এর আগে সোমবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে বন্দর উপজেলা থেকে আটক করা হয় সরোয়ারকে। সে ওই এলাকার মৃত ইমান আলীর ছেলে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও তাঁর শার্ট।

সরোয়ারকে গ্রেফতার ও ছুরি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম।

তিনি জানান, “প্রথমে আলম মার্কেটের অ্যামব্রয়ডারি মালিক নিরুকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বন্দর থেকে আটক করা হয় সরোয়ারকে। তাঁর কাছ থেকে রক্তমাখা ছুরি ও শার্ট জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে হত্যাকান্ডের নেপথ্য কারণ।”

তিনি আরও জানান, “জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার জানিয়েছে, ‘শাকিলকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ঈদের পরদিন একটি ছুরি কিনে সে। ঘটনার দিন রাতে তাঁরা দু’জন একসাথে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দেখার পর ইয়াবা সেবন করে এবং এক পর্যায় শাকিল যখন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঝিমুচ্ছিলো তখন সে আগের থেকে কাছে রাখা ছুরি দিয়ে  উপুর্যপরি শাকিলের বুকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে রাত ৪ টা ১৭ মিনিটে বের হয়ে যায়।”

প্রসঙ্গত, সোমবার (১৬ জুলাই) সকালে নয়ামাটির আলম মার্কেটের আফসানা হোসিয়ারি কারখানা থেকে শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আফসানা হোসিয়ারি মালিক সুমন ও নৈশপ্রহরী আমিনউদ্দিনকে আটক করা হয়। ঘটনা তদন্তে হত্যাকাণ্ডে তারা সস্পৃক্ত না থাকায় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।