কাঁচপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২৫

সোনারগাঁ(আজকের নারায়নগঞ্জ): সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও অন্যান্য কয়েকটি সুযোগ সুবিধার দাবিতে কাঁচপুরে সিনহা ওপেক্স গ্রুপের কারখানার শ্রমিকদের সাথে এ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত পঁচিশজন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ও কয়েক রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বেলা সাড়ে এগারোটায় পুলিশ শ্রমিকদেরকে শ্বান্ত করলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে তীব্র যনাজট সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গণপরিবহনের যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানায়, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অজুহাতে বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে। কিন্তু শ্রম আইন অনুযায়ী কোন শ্রমিককে ছাটাই করতে হলে তিন আসের আগাম বেতন ও বিভিন্ন ভাতা প্রদানের নিয়ম থাকলেও সিনহা ওপেক্স গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। এছাড়া মাতৃত্বকালিন ছুটিতে গেলে শ্রমিকদের সেই ভাতাও প্রদান করা হয়না।
প্রতি মাসের বেতন দেয়া হয় ১৫ তারিখের পর। এসব বিষয় নিয়ে শ্রমিকরা মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানালেও তারা কোন কর্নপাত করছে না। যে কারনে শ্রমিকরা দাবি আদায়ের জন্য বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে।
শ্রমিকদের দাবি, পুলিশ কোন প্রকার উস্কানি তাদের উপর হামলা চালিয়ে লাঠিচার্জ করে, বরার বুলেট ও টিয়ার সেল ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে প্রায় ২০ শ্রমিক আহত হয়েছে বলে শ্রমিকরা দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ জোন-৪ এর ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত এ শাহীন জানান, সকালে শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে পুলিশ টিয়ার শেল ও কয়েক রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা শান্ত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান তিনি।