বুক কাপানো সমাবেশের পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জের আরো ১১ জন কারাগারে

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ ৭ সেপ্টেম্বর ষড়যন্ত্রকারীদের বুক কাপানো বিশাল জনসমাবেশের পরদিনই  সিদ্ধিরগঞ্জের ১১ নেতাকর্মীর ঠাই হয়েছে কারাগারে।

রোববার(৮ সেপ্টেম্বর) ওই ১১ জন নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১১ জন হলেন হলেন, মোহাম্মদ কবির, মোহাম্মদ মোশারফ, আলমগীর, ইসহাক, রাজ্জাক, সোহাগ, নাজির, সাইফুল, জয়নাল আবেদীন, শামীম, ইয়াসিন।

এর আগে ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আতিক বিন কাদের এর আদালতে ৮ জন হাজির করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তারা হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মো. আবু সাঈদ ওরফে শিপন, সানাউল্লাহ, রাসেল ওরফে ইয়াসিন আরাফাত রাসেল, আনোয়ার হোসেন আশিক, মো. এনায়েত হোসেন, আজিজ আহম্মেদ ও সাইফুল ওরফে চায়না সাইফুল।

এ ছাড়াও ৩ সেপ্টেম্বর ১০ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমানের আদালতে ওই ১০ আসামি উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ১০ আসামির সবাই উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলে তাদের ১০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। ওই ১০ জন হলেন ফারুক ওরফে টাইগার ফারুক, কবির, মজিবর, বাদল মিয়া, মাঈন উদ্দিন, মো. রাসেল, মো. ফারুক মুন্সী, শাজাহান ওরফে বালু শাজাহান, মো. নজরুল ইসলাম ও শাহজালাল।

৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের ইস্যু। কিন্তু একদিন পরেই ৮ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের ঘটনায় আরো ১১ জনকে কারাগারে যেতে হয়েছে। আসামীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই আদালতে আত্মসমর্পন করেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।

এর আগের দিন সমাবেশে সিদ্ধিরগঞ্জের মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আহবান জানিয়ে পুলিশের উদ্দেশ্যে  মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেছেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জের একজন প্রতিবন্ধিকে কিছু লোক পিটিয়ে হত্যা করল। আর সেখানে ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হল। এই লিস্ট আপনাদের কে দিয়েছে? আমি গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। কার নির্দেশে কার আদেশে মামলা হয়েছে আমরা জানতে চাই। এখনো সিদ্ধিরগঞ্জে ২০জন নেতাকর্মী হাজতে আছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই অবিলম্বে সিদ্ধিরগঞ্জের এই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’  নিহতের ভাই যে ১৮জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে সেই ১৮জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করুন। তদন্ত করে বাকি আমার ১৭৪জন নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিবেন এটা আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ।’

অপরদিকে একই সমাবেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটনা ঘটেছে ১নং ওয়ার্ডে। মামলার আসামী দেওয়া হলো ১ হতে ১০নং ওয়ার্ডে। ৭৫ জনের নাম উল্লেখ সহ ৪৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলো। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭০ ভাগ ও বাকি ৩০ ভাগ ব্যবসায়ী। তারা সকলেই আওয়ামী লীগের সাচ্চা কর্মী ও ব্যবসায়ী। মামলার বাদী পরে বলেছেন মামলায় তার সাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। সেখানে সেলিম নামের পুলিশ এসব কাজ করেছেন। আসামীর তালিকা করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ হলো নারায়ণগঞ্জের গোপালগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ডেকেছিলাম। অনেক চৌকষ পুলিশ অফিসার। সিদ্ধিরগঞ্জের ঘটনার পর আমি কথা বলেছিলাম। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। অতি উৎসাহী পুলিশ অফিসার ষড়যন্ত্র করছে। কিছু অফিসার আছে সংখ্যায় কম নিজেরা শিবির টিবির করতো, নয়তো বাপ দাদা রাজাকার ছিল। তিনি আমাকে কথাও দিয়েছেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। আর যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা গেম করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, গত ২১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলা বাড়ি এবং পাইনাদী নতুন মহল্লায় পৃথক দুই ঘটনায় বাক প্রতিবন্ধি এক যুবককে ‘ছেলেধরা’ গুজব তুলে পিটিয়ে হত্যা ও একই কায়দায় শারমীন নামে এক নারীকেও গণপিটুনী দিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ দুটি ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হয়। মামলা দুটিতে ৯৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে সাড়ে ৫‘শ জনকে আসামী করা হয়। এরমধ্যে অনেকেই আছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে মনে করেন সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান ও সেক্রেটারী হাজী ইয়াছিন মিয়া। কথা বলেন শামীম ওসমান ও আইভীও।