ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট আজকের ফাইনালের মধ্যমনি !

 

ক্রীড়া ডেস্কঃ ৫০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে বিশ্ববাসীর নিজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তিনি রাশিয়া বিশ্বকাপে থাকবেন এটা ভাবাই যায় না। কখনও টিমের জন্য গলা ফাটাচ্ছেন, কখনও ফুটবলারদের সঙ্গে মেতে উঠছেন উদ্দাম সেলিব্রেশনে। দেশের প্রেসিডেন্ট যখন জাতীয় দলের খেলা দেখতে মাঠে আসেন, তখন দল এমনিতেই উজ্জীবিত থাকে।  প্রেসিডেন্ট- রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছে।

র‌্যকিটিচ, মানজুকিচদের সবচেয়ে আবেদনময়ী ক্রোয়েশিয়ার কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রাবার কিটারোভিচ। আজকের ফাইনালে খেলার পাশাপাশি তার দিকেও থাকবে সারাবিশ্বের ফুটবল দর্শকদের দৃষ্টি।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিমধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। তাই ফাইনালে থাকছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা এটা ধরেই নেয়া যায়। ক্রোয়েশিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে ১৫ জুলাই লুঝনিকি স্টেডিয়ামে থাকছেন কিতারোভিচের!

ক্রোয়েশিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা ফুটবলের একজন অন্ধ ভক্ত। রাশিয়াকে টাইব্রেকারে হারানোর পর ক্রোয়েশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট প্রোটোকল ভেঙে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদের সামনেই নেচে ওঠেন। সামাজিক মাধ্যমে নিমিষেই প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডার সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ৩ গোলে হারিয়ে সবাইকে চমকে দেয় দেশটি। এরপর স্বাগতিক রাশিয়াকে হারিয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর আরও একবার সেমিফালে ওঠে। গতকাল বৃটিশদের হারিয়ে আরো নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে ক্রোয়েশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্র্যাবার-কিটারোভিচ এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই।

র‌্যকিটিচ, মানজুকিচদের ফুটবল স্কিলে যখম সম্মোহিত ক্রীড়া দুনিয়া, তখন ক্রোটদের সুন্দরী প্রেসিডেন্টের প্রাণোচ্ছলতায় মজেছে নেট দুনিয়া। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে ঘিরে যখন নিরাপত্তার বাড়বাড়ন্ত, তখন তিনি প্রেসিডেনশিয়াল প্রোটোকলের বালাই করেন না। সেলিব্রেট করতে কখনও ঢুকে পড়েন খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমে, কখনও উঠে পড়েন প্লেনের ইকোনমি ক্লাসে।

১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন কোলিন্ডা। এখন তিনি দুই সন্তানের মা। তার বড় মেয়ে ক্যাটারিনা একজন প্রফেশনাল স্কেটার। জাতীয় পর্যায়ে ক্রোয়েশিয়ার জুনিয়ার চ্যাম্পিয়নও বটে। ক্রোয়েশিয়ার কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট তিনি। বয়স ৫০ বছর। ২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শপথগ্রহণ করেন। তার আগে ছিলেন ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদে।

প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে সামলেছেন নানা কূটনৈতিক পদ, কাজের সুবিধার্থেই শিখেছেন বহু ভাষা। মোট ৮টি ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময় মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন কোলিন্ডা কিটারোভিচ।