গোল্ডেন গ্লাভস যাচ্ছে কার হাতে ?

ক্রীড়া ডেস্কঃ  একে একে গ্রুপ পর্ব, দ্বিতীয় রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনাল,সেমিফাইনাল ও তৃতীয়স্থান নির্ধারনী শেষে রাশিয়া বিশ্বকাপ এসে উপনীত হয়েছে ফাইনালে। গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুটের মত বিশ্বকাপের আরেকটি ব্যক্তিগত পুরস্কার হলো গোল্ডেন গ্লাভস্। বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার এ পুরস্কারটি পেয়ে থাকেন। বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞের ফাইনালে আজ লড়ছে  ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। শনিবারে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বেলজিয়াম।

সম্ভবত সেমিফাইনালে খেলা ৪টি দলের কোন একজন মূল গোলরক্ষকই এ পুরস্কারটি পাবেন, এর মধ্যে যে দুজন ফাইনালে মোকাবেলা করছেন তাদের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। কারণ টুর্ণামেন্টের বিগত ইতিহাস বলছে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন বা রানারআপ দলের গোলরক্ষকের ঝুলিতেই গিয়েছে।

আপাতত চোখ বুলিয়ে আসা যাক কেমন ছিল সম্ভাব্য গোল্ডেন গ্লোভ প্রত্যাশী চার গোলরক্ষকের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স-

কর্তোয়া (বেলজিয়াম): ১৮টি সেভ নিয়ে মেক্সিকোর গিলের্মো অচোয়া আর ডেনমার্কের কেসপার স্মেইকেলের পরেই এ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি সেভের মালিক কর্তোয়া। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার নৈপুণ্যের কথা না বললেই নয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির এই বেলজিয়ান যেন একাই হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন চীনের প্রাচীর। ৯টি সেভ করে বেলজিয়ামের ব্রাজিল বধের অন্যতম কান্ডারি ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচ খেলে ২টি ক্লিনশিট পেয়েছেন কর্তোয়া, গোল হজম করেছেন ৪টি।

দ্যানিয়েল সুবাসিচ (ক্রোয়েশিয়া): ৩৩ বছর বয়সী সুবাসিচ গোটা বিশ্বকাপে ঠেকিয়েছেন ৪টি পেনাল্টি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত টাইব্রেকারে ৩টি পেনাল্টি সেভ করার কীর্তি গড়েন। কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে পায়ে ব্যথা নিয়েও খেলা চালিয়ে যান এবং টাইব্রেকারে রুশদের প্রথম পেনাল্টি ঠেকান। এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নযাত্রার অন্যতম মূল নায়ক হিসেবে ৫ ম্যাচে ৩ ক্লিনশিট পাওয়া সুবাসিচের নাম বললে খুব বেশি কেউ দ্বিমত করবে না। আজকের ফাইনালেও কারিশমা দেখানোর সুযোগ রয়েছে তার।

হুগো লরিস (ফ্রান্স): টুর্ণামেন্টে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৪টি ক্লিনশিটের মালিক লরিস। টুর্ণামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে কেবল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচেই কেবল গোল হজম করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি সেভ করেছেন লরিস। ফাবিয়েন বার্থেজের পর দ্বিতীয় ফরাসি হিসেবে গোল্ডেন গ্লোভ জেতার হাতছানি তাই লরিসের সামনে। আজকের ফাইনালে কেমন খেলেছেন তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমিরা।

 

পিকফোর্ড (ইংল্যান্ড): পিকফোর্ডের হাত ধরেই বিশ্বকাপে নিজেদের টাইব্রেকার জুজু কাটিয়েছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়া আর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে অতিমানবীয় নৈপুণ্যের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মত ইংলিশদের সেমিফাইনালে তুলতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে তার উচ্চতা নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার খোঁচা বিতর্কের সৃষ্টি করলেও পিকফোর্ড তার জবাব দিয়েছেন পারফরম্যান্স দিয়েই।