নমস্কার’ দিয়ে খাসকামরায় ঘাতক পিন্টু ‘আদাব বলে বিদায়

আজকের নারায়নগঞ্জঃ  অবশেষে স্বাভাবিকভাবেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে নারায়নগঞ্জের প্রবীর ঘোষ হত্যার নায়ক ঘাতক বন্ধু পিন্টু দেবনাথ।  ১৪ জুলাই শনিবার  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের পর ঘাতক পিন্টু দেবনাথকে বিচারক মেহেদী হাসান কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে প্রবেশের পথে এবং স্বীকারোক্তি প্রদানের পর প্রবীর ঘোষ হত্যাকান্ডের ঠান্ডা মাথার খুনি পিন্টু দেবনাথ অত্যান্ত স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়।

বিজ্ঞ বিচারক মেহেদী হাসানের খাস কামরায় ”নমস্কার” বলে প্রবেশের পর জবানবন্দী শেষে ঘাতক পিন্টু  বেরিয়ে আসার সময় ”আদাব” বলে বিদায় নেয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে।

দীর্ঘ  ৪ ঘন্টা জবানবন্দি প্রদানের সময় অত্যান্ত স্বাভাবিক ছিলো ঘাতক পিন্টু দেবনাথ।

আদালতে হত্যাকান্ডের মূল হোতা পিন্টু দেবনাথের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের দারোগা মফিজুল ইসলাম আদালত চত্তরেই উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, প্রবীর ঘোষ তার কাছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও আরো কিছু স্বর্ণালংকার পাওনার জন্য অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে আসছিলো। এবং এই পাওনার জন্য দোকান ও ব্যবসা দখল করতে পারে এই আশংকা ও নারী সংক্রান্ত কেলেংকারী নিয়ে ব্লাকমেইলিং করায় গত কয়েক মাস যাবৎ  প্রবীরকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে ঈদের ছুটিতে মদ ও নারীর প্রলোভনে ফেলে ডেকে এনে একাই হত্যা করে লাশ লুকিয়ে ফেলতে টুকরা টুকরো করে সেপটিক ট্যাংকে ও পাশের আবর্জনাস্থলে ফেলে দেয়।

অপরদিকে প্রবীর ঘোষের খুনী ব্যবসায়িক পার্টনার ঘাতক বন্ধু পিন্টু দেবনাথের দোকান থেকে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার জব্দ করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১টায় পুলিশ পিন্টুকে সঙ্গে নিয়ে কালীরবাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে পিন্টু স্বর্ণ শিল্পালয় দোকান খুলে। এসময় এখান থেকে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ ভরি ১০ আনা ৩ রতি স্বর্ণলংকার জব্দ করে। পাওয়া যায় বন্ধকি স্বর্ণ। এগুলো পুলিশ একটি ব্যাগে ভরে মুখ সিলগালা করে দোকানের ভেতরেই রেখে দেয়। পরে দোকানটিও সিলগালা করে দেয় পুলিশ।

এসময় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেতারা পুলিশকে জানিয়েছে, বন্ধকী স্বর্ণের জন্য বেশ কিছু মহিলা গ্রাহক তাদের স্বর্ণ ফেরত নিতে আসছে। তারা তাদের বন্ধকী স্বর্ণালংকার ফেরত চাচ্ছে।

এতে কারও বিয়ের স্বর্ণও রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা কিভাবে গ্রাহকদের স্বর্ণগুলো ফেরত দেয়া যায় তা জানতে চায় ডিবি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে। এসময় পুলিশ জানায়, আদালতের অনুমতি নিয়ে তারা গ্রাহকদের বন্ধকী স্বর্ণালংকারগুলো ফেরতের ব্যবস্থা করে দেবেন।