ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে বেলজিয়াম

ক্রীড়া ডেস্কঃ  ম্যাচের আগেই বলা হচ্ছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এমন একটি ম্যাচ যা কেউ খেলতে চায় না। না চাইলেও তবু খেলতে হয় উভয় দলকেই। সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দলকে মুখোমুখি হতে হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায়। এমন উত্তাপহীন ম্যাচে প্রথমে মিউনিয়ার ও পরে হ্যাজার্ডের গোলে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে তৃতীয় স্থানে থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ করলো রেড ডেভিলস খ্যাত বেলজিয়াম।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় তৃতীয় স্থান ম্যাচে মুখোমুখি হয় সেমিফাইনালে পরাজিত এ দু’দল।
এদিন বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ৫৮ শতাংশ সময় ধরে বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তারা। অন্যদিকে, বেলজিয়াম ৪২ শতাংশ সময় ধরে বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। ইংল্যান্ড টার্গেটে শট নিয়েছে ছয়টি। বেলজিয়াম টার্গেটে শট নিয়েছে চারটি।

গুরুত্বহীন হলেও এই ম্যাচে বেলজিয়াম এবং ইংল্যান্ড উভয় দলই সেমিফাইনালের দলের পরিবর্তন করে। ইংল্যান্ড ৫টি ও বেলজিয়াম ২টি পরিবর্তন করে নামে উভয় দল।

খেলা শুরুর চতুর্থ মিনিটেই গোল আদায় করে নেয় বেলজিয়াম। ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের ভুলই ছিল মূখ্য। খেলা শুরুর ৪ মিনিটের মাথায় গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম। নাসের শ্যাডলির অ্যাসিস্ট থেকে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান থমাস মিউনিয়ার।

৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় মুনিয়ের করা গোলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেলজিয়ামের দ্রুততম গোল।

মুনিয়ের বেলজিয়ামের দশম খেলোয়াড় হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপে গোল করলেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ভিন্ন ১০ জন খেলোয়াড় গোল করার কৃতিত্ব দেখান। ২০০৬ বিশ্বকাপে একই কীর্তি গড়েছিলেন ইতালির খেলোয়াড়রা।

এরপর ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বারবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। তাই প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল বেলজিয়াম।

বিরতির পর ম্যাচের ৭০তম মিনিটে বলতে গেলে নিশ্চিত গোলই বাঁচিয়েছে বেলজিয়াম। গোলরক্ষক কোর্তোয়া পড়ে গিয়েছিলেন। এমন সময় গোলে শট নেন এরিক ডায়ার। কিন্তু গোললাইনের একেবারে সামনে থেকে বল ক্লিয়ার করে দেন আল্ডারওইরেল্ড। ৭৩তম মিনিটে আবারও সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হয় তারা।

তবে ৮২তম মিনিটে সুযোগ পেয়ে কাজে লাগায় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনার কাছ থেকে পাস পেয়ে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বল জালে পৌঁছে দেন এডেন হ্যাজার্ড। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম। আজ ম্যাচ সেরা হয়েছেন বেলজিয়ামের অধিনায়ক এডেন হ্যাজার্ড।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই ছিল বেলজিয়ানদের সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে সেরা ছিল চতুর্থ স্থান। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে চতুর্থ হয় তারা।

তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ থেকে অন্তত ২৪ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত হলো তাদের। চতুর্থ হয়ে ইংল্যান্ড পাবে ২২ মিলিয়ন ডলার।