মান্দার কুসুম্বা শাহী মসজিদ ঘিরে দর্শনার্থীরা আরো বিনোদনে আগ্রহী

 মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধি: এই পৃথিবীতে কতগুলো বস্তু রয়েছে, যা মনকে অবাক বানিয়ে নিয়ে যায় চিন্তার গভীর অরণ্যে। মানুষ ক্ষণিকের জন্য ভাবতে ভাবতে বিমোহিত হয়ে যায়। মনের মনি কোঠায় একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে! কে,কখন, কেমন করে,কতদিনে এ বস্তু বানিয়েছে? এমনই প্রশ্নের মুখে স্বাক্ষী হয়ে আজ অবধি দাঁড়িয়ে রয়েছে মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুসুম্বা শাহী মসজিদটি।

মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা শাহী মসজিদ। নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে মান্দা উপজেলার নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই মসজিদ। পাঁচ টাকার কাগজের নোটে মুদ্রিত এ মসজিদটি স্থান পেয়েছে।

জানা যায়, ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহের রাজত্বকালে সুলতান সোলায়মান নামে এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ ফুট ৬ ইঞ্চি, প্রস্থ প্রায় ৪৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মূল্যবান কালো পাথর দিয়ে নির্মিত এই মসজিদটি প্রায় ৪৬১ বছরের ইতিহাস বহন করে। গম্বুজগুলো পিলারের ওপর স্থাপিত। পূর্ব দেয়ালে তিনটি প্রবেশ পথ খাঁজকাটা পিলার যুক্ত। মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে একটি বড় তেঁতুল গাছ আছে। সামনে রয়েছে বিশাল আকৃতির দীঘি। দীঘির আয়তন প্রায় ৭৭ বিঘা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২৫০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৯শ ফুট। দীঘিতে নামার জন্য দুটি দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি রয়েছে।

প্রতি বছর ঈদের দিন থেকে শুরু করে কয়েকদিন পর্যন্ত ঘুরতে আসেন হাজারো নারী-পুরুষ। আবার অনেকে স্বপরিবারে ছুটে আসেন। এছাড়া অন্যান্য দিনেও দর্শনার্থীরা এসে থাকেন। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা উপলক্ষে মসজিদের চারপাশে বসেছে গ্রামীণ মেলা।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অনেক দর্শনার্থীরা বলেন, এখানে এসে আমাদের অনেক ভালো লেগেছে। তবে এখানে মসজিদ ও দীঘি দেখার পর বিনোদনের আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। এখানে যদি বিনোদনের জন্য আলাদা কোনো পার্ক থাকতো তাহলে পর্যটকরা আরেকটু বেশী সময় কাটাতে পারত।

তাছাড়া এখানে খাবারের জন্য ভালো কোনো হোটেলও নেই। নেই কোনো আবাসিকের সু-ব্যবস্থা। ফলে বাহিরের জেলা থেকে কোন পর্যটক আসলে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নওগাঁ বা রাজশাহী যেতে হয়।

মান্দার ঐতিহ্যবাহী কুসুম্বা শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন,প্রতিবছরে “ঈদকে ঘিরে প্রায় সপ্তাহব্যাপী দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে লক্ষ্যনীয় । দর্শনার্থীদের আগমনকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে মসজিদের চারপাশে ও দীঘিতে নামার সিঁড়িতে টাইলস বসানো হয়েছে। মসজিদ দৃষ্টিনন্দন করতে লাইটিং এর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। অচিরেই আরো উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।