খালেদার কপালে আর মুক্ত বাতাস জুটবে না- চন্দনশীল

আজকের নারায়নগঞ্জঃ নারায়নগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি  চন্দনশীল বলেছেন, “শামীম ওসমান আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে, এটা আমাদের ভাবা ঠিক হবেনা। অতএব প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে আমরা যাতে আমাদের নেতাকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পারি, সে লক্ষ্যে এখন থেকেই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও আমাদের নেতা সাংসদ শামীম ওসমান তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যে উন্নয়নের জোয়ার ঘটিয়েছেন, তা জনগনের সামনে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড গুলো ভিডিও রেকর্ডিং এর মাধ্যমে সিডি করে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বড় পর্দার মাধ্যমে জনগনকে দেখাতে হবে।

তিনি প্রত্যেক ইউনিয়নের নির্বাচন কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিটি করার আহবান জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এসব কমিটিতে খন্দকার মোস্তাকের মত প্রেতাত্মারা যারা আমাদের দলে ঢুকে বিএনপি-জামায়াতের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছে তাঁদের সুযোগ দেয়া যাবেনা।

বুধবার (১০) জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সেমিনার কক্ষে ফতুল্লা ইউনয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

চন্দশীল বলেন, “বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করার সুযোগ আর পাবেন না। কারন, দুর্ণীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি অন্ধকার কারাগারে বন্দি আছেন। আর এ কারণে মুক্ত বাতাস তাঁর কপালে আর জুটবে না।”

ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিছির আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে চন্দন শীল আরো বলেন, “বিএনপির কিছু কিছু নেতা বিভিন্ন সময় উস্কানি দিয়ে কথা বলেন। তাঁদের প্রতি আমার আহবান, উস্কানি দেয়া বন্ধ করুন। যদি মনে করি প্রতিশোধ নেব তবে আপনাদের অবস্থা কি হবে তা বলা মুশকিল। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আপনারা আমাদের কি প্রকার অত্যাচার জুলাম নির্যাতন করেছেন তা কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি এবং প্রতিশোধও নেইনি। তাই বলে আমাদের দুর্বল ভাববেন না।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপি না আসায় আমাদের নেতা শামীম ওসমানসহ দেশের ১৫১ টি সিটে আমাদের দলীয় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার আমরা ধরে নিয়েছি বিএনপি নির্বাচনে আসবে। এখন হয়তো বলছে তাঁরা নির্বাচনে আসবে না। কিন্তু আমরা মনে করি ঠিকই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিবে। আবার আপনারা অনেকে মনে করতে পারেন তাঁদের দোসর জামায়াতের কোন অস্তিত্ব এখন নেই। কিন্তু না, ওরা ঘাপটি মেরে আছে। সময় মত ওরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, “আপনারা যারা যেই কেন্দ্রের নির্বাচন কমিটির দায়িত্বে থাকবেন তাঁরা জনগন তথা ভোটারদের হাতে ধরে বা পায়ে ধরে যে যেভাবে পারেন শামীমকে তথা নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন। অন্যথায় আপনাদের দুই পয়সারও দাম থাকবেনা।”

অনুষ্ঠিত সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, ওয়ালী মাহমুদ, শহর যুবলীগের সভাপতি সাহাদাৎ হোসেন সাজনু, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, জেলা স্বেচ্ছাবেক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফায়জুল, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফরিদ আহাম্মেদ লিটন, সরকারি তোলারাম কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানি, বর্তমান সভাপতি আজিজ, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াদ প্রধান ও ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মো.শরিফুল হক, যুবলীগ নেতা আজমত, মজিবুর প্রমূখ।