প্রেমিকার ডাকে এসে স্বজনদের হাতে প্রেমিক খুন

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক: শহরের খানপুরে প্রেমিকার ডাকে তার এসে প্রেমিক ফয়সাল হোসেন (১৮) এর প্রাণ গেলো । সে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পশ্চিম এনায়েতনগরের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে। বুধবার(৩১ জুলাই সন্ধ্যায়  খানপুর ব্রাঞ্চরোডে আলতাফ মিয়ার বাড়িতে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে ৫ জনকে। আটককৃতরা হলো: প্রেমিকার বড় ভাই মো: আসিফ (২০), সাকিব (১৫), মিলন (১৮), সানজিল (১৭) ও সায়েম (১৮)। নিহত ফয়সাল পেশায় একজন ফ্রিজ মিস্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা।

নিহতের বড় ভাই সজিব হোসেন জানান, গতকাল বুধবার বিকেল ৩টা নাগাদ প্রেমিকা সামিয়াকে দিয়ে প্রেমিক ফয়সালকে বাড়িতে ডেকে নেন সামিয়ার বড় ভাই আসিফ। এ সময় ফয়সালকে আসিফ তার বোনের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বলে।

ফয়সাল কথা না বাড়িয়ে মোবাইলটি ফেরত দেয়। আসিফ ঘটনা এখানেই শেষ করতে চায়নি। তার মনে অন্যকিছু ছিল। তাই সে উল্টোপাল্টা কথা বলে পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করে। ফয়সাল প্রেমিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে আসিফ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে প্রেমিকার অন্যান্য স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফয়সালের উপর। বেধরক পেটাতে থাকে। এ সময় আসিফ ঘটনাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পিটুনীতে ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রেমিকার ভাই আসিফ তার বন্ধুবান্ধবদের ঢেকে নেয়। আসিফের বন্ধুরা গুরুতর আহত ফয়সালকে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিস্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় ডিউটি ডাক্তার ফয়সালকে মৃত ঘোষনা করে।

৩‘শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডাক্তার সেলিনা জানিয়েছেন, ছেলেটিকে হাসপাতালে যখন আনা হয়েছে তখন সে মৃত ছিলো। হাসপাতালে আনার পূর্বেই সে মারা গেছে। এদিকে ছেলে মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের মা শিউলী বেগম খানপুর হাসপাতালে ছুটে আসেন।

তিনি জানান, দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর বাসা থেকে বের হয় ফয়সাল। তবে কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে কিছু বলেনি। পরে রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতালে আসেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদন। তিনি জানান, কীভাবে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।