শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ভয়ঙ্কর অন্ধকার থেকে আলোতে থাই ফুটবল দল

আজকের নারায়নগঞ্জঃ   তারা ১২ ফুটবলার, কোচকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল দারুণ দলগত ঐক্য। তাদের সুন্দর জীবনে হঠাৎ মারাত্মক অন্ধকার নেমে আসে একসাথে। এরপরের ঘটনাতো সিনেমাকেও হার মানায়। অবশেষে সব বাঁধা উপেক্ষা করে নিজেদের জীবন বাজি রেখে তাদের উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। এজন্য জীবনও দিতে হয়েছে একজনকে।

কীভাবে বের করা হল ক্ষুদে ফুটবলারদের?

২৩ জুন গুহায় আটকে পড়ার ৯ দিন পরে সবাইকে বিস্মিত করে তাদের খোঁজ জানায় দুই ইংলিশ ডুবুরি। এরপরে শুরু হয় শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তা। প্রচুর বৃষ্টির কারণে গুহার ভেতর পানি জমে বন্যা হয়ে গেলে গুহায় আটকে পড়েছিল দলটি। দফায় দফায় উদ্ধার চেষ্টার পরও তাদের কোনো চিহ্ন না পেয়ে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছিল।

এর মাঝে চারপাশ থেকে পানি কমিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে উদ্ধারকারী দল। এরপর শুরু হয় নানা পরিকল্পনা, কীভাবে উদ্ধার করা যায় তাদের। অবশেষে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। অক্সিজেন স্বল্পতা, পানি-কাদা-পাথরের দূর্গম অভিযানের তিন দিনের মাথায় উদ্ধার করা হয় ১৩ জনের এই দলটিকে। 

ডুবুরির মৃত্যু

এই ফুটবল দলটিকে উদ্ধার করা যে সহজ চিল না, তার প্রমাণ এই ডুুবুরির মৃত্যু। উদ্ধার অভিযানে মৃত্যু হয়েছে থাই নেভি সিলের কর্মকর্তা সামান গুনান। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে রাত ১টার দিকে গুহায় অক্সিজেনের ট্যাঙ্ক বসানোর সময়েই অক্সিজেনের অভাবে মারা যান তিনি।

অবশেষে সফলতা

উদ্ধার অভিযানের প্রথমদিন রোববার চার জনকে, দ্বিতীয় দিন সোমবার চার জনকে এবং তৃতীয় দিন মঙ্গলবার কোচসহ পাঁচ জনকে উদ্ধার করা হয়। ভেতরে থাকা একজন চিকিৎসক ও তিন জন ডুবুরিও বের হয়ে এসেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

গুহায় আটকে পড়া দলটির পরিচয়

গুহায় আটকে যাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া ফুটবল দলের পরিচয় প্রকাশ করেছে সিএনএন। এদের মধ্যে ছিল ২৫ বছর বয়সী কোচ আক্কাপোল সানথাওং, ক্ষুদে ফটবলার আদুল সাম-অন(১৪), প্রজাক সুথাম(১৪), নাত্থুয়াউথ থাকামসাই(১৪), পিপাট পথি(১৫), পানুমাস ‍সায়েং-ডি(১৩), ডুয়াংফেট প্রমথেপ(১৩), ছানিন ভিবোনরুংওয়াং(১১), আকারাত ওংসুখচান(১৪), পিরাপাত ‍সমফিয়াংযাই(১৬), পংচাই খামলয়াং(১৬), সমযাই যাইওং(১৩), মংকল বুনপিয়াম(১৩)।

উৎসব চারিদিকে

ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেও পুরো বিশ্বের মনযোগ ছিল এই ফুটবলের দিকে। অবশেষে যেন স্বস্তি নেমে এলা পৃথিবীর বুকে। ফুটবলারদের উদ্ধারে বুক থেকৈ যেন পাহাড় নেমে গেছে সবার। এখন চলছে উদযাপন। শুধু থাইল্যান্ড নয়, এই উৎসব চলছে সব প্রান্তে। কিশোরদের বন্ধুরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে তারা আবার একসঙ্গে খাবার খাবে, মজা করবে, খেলবে। সববয়সই মানুষ মেতেছে উল্লাসে, তারা ফিরে পেয়েছে তাদের ভবিষ্যত খেলোয়ারদের। ইংলিশ ডুবুরিদের মাধ্যমে প্রথমে খোঁজ পাওয়ায় থাই নাগরিকদের অনেকে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলকে সমর্থন জানাবে বলেও জানিয়েছে তারা।

ফিফার আমন্ত্রণ

আবেগ ছুঁয়েছে ফুটবল বিশ্বের অভিভাবক সংস্থা ফিফাকেও। উদ্ধঅর হওয়া দলটিকে মস্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ফিফা। তবে স্বাস্থ্যজনিত কারণে তারা দেখতে পারবে না ফুটবলের এই মহারণ। থাই ফুটবল এসোসিয়েশনের সঙ্গে আলাদা করে এই বিষয়টি নিয়ে বসবে বলেও জানিয়েছে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আমন্ত্রণ

ক্ষুদে এই ফুটবল দলকে ওল্ডট্রাফোর্ডে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ফেসবুকে নিজেদের স্বস্তির কথা জানিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ক্লাবটি।

জার্সি উপহার

উদ্ধার হওয়া এই দলটিকে জার্সি উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ফুটবলার কাইল ওয়াকার। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়াকার। এরপরও এই ক্ষুদে ফুটবলারদের অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি তিনি।

শুভেচ্ছা ও প্রশংসার বন্যা

শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার করা হয় এই দলটিকে। অভিযানে অংশ নেয়া থাই নেভিসিলের সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব। থাই সরকারের প্রসংশা করতেও ভোলেনি কেউ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলো মেরকেলের মুখপাত্র, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মেসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।