আর্থিক লেনদনের কারণেই খুন হতে পারেন প্রবীর- এসপি মঈনুল হক

আজকের নারায়নগঞ্জঃ শহরের কালীরবাজারে ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক প্রবীর ঘোষের হত্যার সঙ্গে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিুন্ট দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক জড়িত। তারাই নৃসংশভাবে প্রবীর ঘোষকে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে কেটে টুকরো টুকরো করে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। এরমধ্যে বাপন ভৌমিক বাবু পিন্টু দেবনাথের কর্মচারী। হত্যার পর পিন্টু ভৌমিক প্রবীর ঘোষের মোবাইল ফোনটি বাপনকে ব্যাবহার করতে দেয়। পরে মোবাইল ট্যাকিং করে আইএমইআই নাম্বারের সূত্র ধরে প্রবীর ঘোষের মোবাইলসহ বাপনকে আটক করা হয়। তার তথ্যমতে আটক করা হয় পিন্টু ভৌমিককে। মূলত আর্থিক লেনদনের কারণেই খুন হয়ে থাকতে পারেন প্রবীর ঘোষ, প্রাথমিকভাবে এমনটাই নিশ্চিত হয়েছেন পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মঈনুল হক।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অথিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন (সার্কেল-ক), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) নুরে আলম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৮ জুন রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রবীর ঘোষ নিখোঁজ হয়। ১৯ জুন তার পরিবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরে প্রবীর ঘোষের মুক্তিপন বাবদ টাকা দাবি করা হলে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করা হয়। মামলাটি ডিবিকে দেয়া হয়।

পরে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলমের তত্ববধানেস মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম (পিপিএম) তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেয়া তথ্যমতে, প্রবীর ঘোষের ৫ খন্ড মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, প্রবীর ঘোষের এক ভাই সৌমিক ঘোষ ইতালী প্রবাসী। সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা পাঠানো হয় প্রবীর ঘোষের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা লেনদেন হতো প্রবীর ও পিন্টুর মধ্যে। সম্প্রতি সৌমিক ঘোষ যখন দেশে আসে তখন থেকেই নিখোঁজ ছিল প্রবীর। সৌমিক দেশে আসার আগেই টাকার জন্য পিন্টুকে চাপ দিতে থাকে প্রবীর। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। পরে পরিকল্পনা করেই প্রবীরকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে পিন্টু ও তার দোকানের কর্মচারী বাপন ভৌমিক।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পিন্টু যে বাসাতে থাকে সে বাসার ফ্লাটেই প্রবীরকে হত্যার পর ওই বাসার নিচে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ব্যাগে করে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মঈনুল হক আরো জানান, মূলত প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বাপন ও পিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে প্রবীরকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যা সঙ্গে আরো কারা জড়িত আছে কি না জানার চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৮ জুন আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার সময় একটি ফোন পেয়ে প্রবীর ঘোষ নিজ বাসস্থান থেকে বের হন। এরপর থেকে তাকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। ১৯ জুন সকাল ১০টা থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় প্রবীর ঘোষের বাবা ভোলানাথ ঘোষ নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় জিডি করেন।

ওই জিডির তদন্ত ভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হয়। ডিবি পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করে পিন্টু ও বাপন সরকার বাবু নামের দুইজনকে আটক করে। এবং প্রবীর ঘোষের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু স্বীকার করে প্রবীর ঘোষের বিষয়টি।

পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে শহরের আমলপাড়া এলাকার ঠান্ডু মিয়ার ৪তলা ভবনের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে সোমবার (৯ জুলাই) রাত ১১ টার দিকে প্রবীর ঘোষের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত পিন্টু দেবনাথ (৪৭) কুমিল্লার মেঘনা থানার চন্দনপুর এলাকার মৃত সতীশ দেবনাথের ছেলে। নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৫ আমলাপাড়া কেসি নাগ রোডের ঠান্ডা মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে। আর বাপন ভৌমিক ওরফে বাবু (২৭) কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ঠেটালিয়ার কুমদ ভৌমিকের ছেলে। সে কালিলবাজার কাজী ভবনে মা স্বর্ণ শিল্পালয়ে কাজ করে।