আড়াইহাজারে রুবেল হত্যা মামলায় ৫ আসামীর ২দিনের রিমান্ড

আজকের নারাযনগঞ্জঃ  আড়াইহাজার উপেজলার কালাপাহাড়িয়ার আলোচিত পুলিশ সদস্য রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৫ আসামীর ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত ২দিনর রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁরা হলেন, শহিদুল্লাহ, মনির হোসেন, রফিক, হৃদয় ওরফে টেন্ডুল ও কাশেম। রিমান্ড শুনানিকালে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়েছিলো।

রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে এই মামলাটি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিঅই) তদন্ত করছে। এর আগে মামলাটির তদন্তভার ছিলো জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে। ডিবি পুলিশ রুবেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শহিদুল্লাহ, মনির হোসেন, রফিক, হৃদয় ওরফে টেন্ডুল ও কাশেমকে গ্রেফতার করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের পহেলা সেপ্টম্বর রুবেল মাহমুদ সুমনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকেরা। সুমন ঈদের ছুটিতে আড়াইহাজার কালাপাহাড়িয়া নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। সে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলো। এ হত্যাকাণ্ডে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ণ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনকে সরাসরি দায়ী করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ স্বপন বাহিনীর পাভেল ও ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে।

এদের মধ্যে পাভেল ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ইয়াসিন ২৫ সেপ্টম্বর রুবেল হত্যার সাথে সম্পৃক্ত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেয়। তাঁরা জবানবন্দীতে জানিয়েছে, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের হুকুমে ও প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় তৈরী বিভিন্ন প্রকার রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল সহ রুবেলদের বাড়ি ঘেরাও করে এবং চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সকলকে কুপিয়ে জখম করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান স্বপন নিজে উপস্থিত থেকে সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় ছুটিতে আসা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে হত্যা নিশ্চিত করে তাঁরা চলে যায়।

এদিকে বাদী পক্ষের আর্জিতে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসিনের আদালত নিহত রুবেলের লাশ আবারও কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ প্রদান করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।