প্রবীরের উদ্ধার আন্দোলনেও অংশ নেয় ঘাতক বন্ধু পিন্টু

আজকের নারায়নগঞ্জঃ    প্রবীরের নিখোঁজের পর থেকে বেশ স্বাভাবিকই ছিলো পিন্টুর আচরণ।কালিরবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ নিখোঁজের পর থেকেই তাকে উদ্ধারের দাবিতে হওয়া আন্দোলন সংগ্রামে খুনী পিন্টু দেবনাথ নিজেও সক্রিয় ছিলো বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়।

তার সঙ্গে প্রবীরের ঘনিষ্ঠতা থাকায় বারবার তার কাছে প্রবীরের খোঁজ জিজ্ঞেস করা হলেও এব্যাপারে পিন্টু ছিলো নির্বিকার। কিছুদিন আগেই হার্ট সার্জারি হওয়ায় তাকে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করা যেতো না।

জানা গেছে, কিছু দিন আগে এই প্রবীর ঘোষের সহযোগিতায়  ভারতের কলকাতায়  বন্ধু পিন্টু দেবনাথের ওপেন হার্ট সার্জারী হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রবীর ঘোষের এক ভাই দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে অবস্থান করছে। ঐ ভাইয়ের দেয়া টাকা নিয়েই প্রবীর ও পিন্টু স্বর্ণ ও সুদের ব্যবসা করছিলেন। এই টাকার একটি বিশাল অংশ পিন্টুর কাছে গচ্ছিত ছিলো। প্রবীর এ টাকার জন্য কিছুদিন ধরে পিন্টুকে চাপ দিয়ে আসছিলো। নিখোঁজের আগে একসঙ্গেই পিন্টুর বাড়িতে ছিলো প্রবীর। ধারনা করা হয় তারপরেই তাকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে সেফটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখা হয়।

প্রবীর ঘোষের সন্ধানকালে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলটি কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় ব্যবহার হওয়ার সন্ধান পায় পুলিশ। তারা মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে এর বাহক বাপন ভৌমিককে গ্রেফতার করে । বাপন ভৌমিক পুলিশকে জানায় পিন্টু তাকে এ মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে দিয়েছে। পুলিশ বাপনকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। এরপরপরই গ্রেফতার করা হয় প্রবীরের বন্ধু পিন্টু দেবনাথকে।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক জানায়, প্রবীর ঘোষের লাশ আমলাপাড়ার ১৫ কে সি নাগ রোডের রাশেদুল ইসলাম ওরফে ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে রয়েছে।