৩টি বস্তায় ৫ খন্ডের লাশ ! মিলেনি হাটুর নীচের অংশ

আজকের নারায়নগঞ্জঃ    ২২দিন যাবত নিখোঁজ আমলা পাড়ার স্বর্ন  ব্যবসায়ীি প্রবীর ঘোঘের ৫টি খন্ডের লাশ ৩টি  বস্তায় ছিল সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে।  তবে হাটুর নীচের অংশ পাওয়া যায়নি। আটককৃত বন্ধু  পিন্টু দেবনাথের  দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক সোমবার রাত আমলাপাড়ার ঠান্ডু মিয়ার বাড়ীর সেপটিক ট্যাংক থেকে খন্ডিত লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।  নিহত প্রবীর ঘোষ তার  ব্যবসায়িক পার্টনার বন্ধু পিন্টু দেবনাথের  হাতেই  নির্মমভাবে খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রবীর ঘোষের সন্ধানকালে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় ব্যবহার হওয়ার সন্ধান পায় পুলিশ। তারা মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে এর বাহক বাপন ভৌমিককে গ্রেফতার করে । বাপন ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে পিন্টু  দেবনাথ তাকে এ মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে দিয়েছে।

এর সূত্র ধরে ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম আটক করেন পিন্টু দেবনাথকে। এরপরই শুরু হয় জেরা। শুরুতে অত্যন্ত কৌশলে পুরো ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চতুর পিন্টু। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। গোয়েন্দা পুলিশের কঠোর জেরার মুখে সোমবার (০৯ জুলাই) সন্ধ্যার পর পিন্টু স্বীকার করেন লোমহর্ষক এই খুনের ঘটনা। জানান প্রবীর ঘোষের লাশের সন্ধান।

তবে কেন এবং কি কারণে এ হত্যাকান্ড এ ব্যাপারে এখনো পুরোপুরি মুখ খোলেনি পিন্টু দেবনাথ এবং বাপন ভৌমিক।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে তারা হত্যার কথা শিকার করে লাশের সন্ধান দেয় ডিবি পুলিশকে।

পিন্টু জানায়, প্রবীর ঘোষকে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে নগরীর আমলা পাড়ার ১৫ কে বি সাহা রোডের ঠাণ্ডা মিয়ার বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কিতে ফেলে রেখেছেন। এ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন পিন্টু। এর একটু কাছেই পিন্টুর জুয়েলারী দোকান।

এ তথ্য পাওয়ার পরপরই সোমবার রাতে  পুলিশ বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং ডোম নিয়ে এসে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে তল্লাশী অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৩টি বস্তায় ৫ খন্ডে খন্ডিত লাশ উদ্ধার হয় । যার মধ্যে মাথা, দুই হাত, শরীর, কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত একটি অংশ পাওয়া যায়। তবে এখনও পাওয়া যায়নি হাঁটুর নিচের অংশ বিশেষ। তবে লাশের হাটুর নীচের অংশ উদ্ধার করা যায় নি। অনেক দিন হয়ে যাওয়ায় লাশটির খন্ডগুলোর বিকৃত হয়ে গেছে।

এভাবেই নিখোঁজের ২১ দিন পর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বন্ধুর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় কালিরবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষের খন্ডিত লাশ।

কেন হত্যা  করাহয় প্রবীর ঘোষকে ?

জানা  যায়, কিছু দিন আগে ভারতের কলকাতায় প্রবীর ঘোষের বন্ধু পিন্টু দেবনাথের ওপেন হার্ট সার্জারী হয়। এই প্রবীর ঘোষই ভারতে পিন্টুর চিকিৎসার জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রবীর ঘোষের এক ভাই দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে অবস্থান করছে। ভাইয়ের দেয়া টাকা নিয়েই প্রবীর ও পিন্টু স্বর্ণ ও সুদের ব্যবসা করছিলেন। এই টাকার একটি বিশাল অংশ পিন্টুর কাছে গচ্ছিত ছিলো।

প্রবীর এ টাকার জন্য কিছুদিন ধরে পিন্টুকে চাপ দিয়ে আসছিলো। নিখোঁজের আগে একসঙ্গেই পিন্টুর বাড়িতে ছিলো প্রবীর। তারপরেই তাকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখে।