৪‘শ টাকার জন্যে রিকশাচালকের হাত-পা ভেঙ্গে দিলো মালিক

সংবাদদাতা,বন্দরঃ নাম মো. আব্দুল হালিম। রিক্সা চালানো তার এক মাত্র পেশা। দৈনিক দু’শ টাকায় ভাড়ায় চালাতেন রিক্সা।  মালিকের হাতে জমার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে অবশিষ্ট যা থাকে ওই টাকায় চলে তার সংসার। অসুস্থ থাকায় দুই দিন রিক্সা চালাতে পারেনি হালিম। রিক্সা চালাতে না পারলেও জমার টাকা পরিশোধ বাধ্যতামূলক। ওই দুই দিনের জমার ৪ শ টাকা বকেয়া পরিশোধ না করায় রিক্সার মালিক শফুরউদ্দিন শপ্পা তার ছেলেকে নিয়ে দিনমজুর চালককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে দু’হাত ও দু’পা ভেঙ্গে রাস্তায় ফেলে দেয়।

এ মধ্যযুগীয় অমানষিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে বন্দরের মালিভিটা গ্রামে। সোমবার রাতে হালিমের হাত-পায়ের অস্ত্রপাচার সম্পূন্ন হয়েছে। স্থানীয় দি বারাকাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে রিক্সা চালক হালিম। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে শফুরউদ্দিন।

গ্রামবাসী জানান, উপজেলা ধামগড় ইউপি মালিভিটা গ্রামের মৃত শংসর আলীর ছেলে শফুরউদ্দিন শপ্পার কাছ থেকে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ভাড়ায় চালাতেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল হালিম। অসুস্থ থাকায় দুই রিক্সা চালাতে আসেনি হালিম। ওই দুই দিনের বকেয়া ভাড়ার ৪শ টাকা পরিশোধ করতে মালিক শফুরউদ্দিন চাপ সৃষ্টি করে। এই নিয়ে গত শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে মালিক- চালকের মধ্যে কথাকাটা হয়। একপর্যায়ে শফুরউদ্দিন রিক্সার এক্সেল হাতে নিয়ে চালক হালিমের ওপর এলোপাথারি ভাবে পিটাতে থাকে। এসয় হালিমের হা-পা ভেঙ্গে গেলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে শফুরউদ্দিন তার বাড়ি থেকে বের করে মুর্মুর্ষ অবস্থায় চালক হালিমকে রাস্তায় ফেলে রাখে। রাস্তা রক্তাক্ত হা-পা ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারিরা উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে সোনারগাঁয়ে একটি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখান তার শাররীক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারে তার হাত পা হাঁড় ভেঙ্গে গুড়া গুড়া হয়ে গেছে। এতে দ্রুত অপারেশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেখান থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ আবদুল মালেকের তত্বাবধানে স্থানীয় দি বারাকাহ হাসপাতালে সোমবার রাতে দু’হাত ও দু’পায়ের অপারেশন করেন। এ ঘটনায় শফুরউদ্দিনকে পুলিশ আটক করলেও পরে তাকে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শফুরউদ্দিন জানান, আমার রিক্সা চুরি করে নিয়ে গেছে। এ জন্য তাকে মেরেছি। মেরেছি বলেই স্থানীয় ভাবে বিচার সালিশি হবে। মাতবরদের পরামর্শে আমি তার চিকিৎসার চালিয়ে যাচ্ছি।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মন্ডল জানান, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শফুরউদ্দিন শপ্পার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও জালিয়াতি মামলাসহ একাধীক মামলা রয়েছে ।