পাগলনাথ মন্দির সরিয়ে কংশ নদীর মুখ উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ফতুল্লার পাগলা এলাকায় খাল দখল করে গড়ে উঠা পাগলনাথ মন্দির উচ্ছেদ করে ঐতিহ্যবাহি কংশ নদীর মুখ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কয়েকদফা নোটিশ দিয়েও মন্দিরটি স্থানান্তর না করায় ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙ্গে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃস্পতিবার(১১ জুলাই) সকালে ফতুল্লার পাগলা এলাকায় শতবর্ষী এই মন্দিরটি গুড়িয়ে দেয় ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নে থাকা সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী দল।

এই মন্দিরটি এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ প্রদানে বিষয়টি নিশ্চিত করে উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ডিএনডি প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর মাহাতাব  গনমাধ্যমকর্মীদের জানান, ‘এই স্থানটি ছিলো কংশ নদীর মুখ। দীর্ঘ বছর আগে নদীর খালের এই স্থানটি দখল করে সেখানে অবৈধ ভাবে এই মন্দিরটি গড়ে তোলা হয়।’

তিনি আরো জানান,  ডিএনডি প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়ার পর থেকেই তাদেরকে এই মন্দিরটি এখান থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা প্রকল্পের কাজের স্বার্থে তা উচ্ছেদ করেছি। শুধু এই মন্দিরই নয়, ডিএনডির আওতাধীন খাল এবং সরকারি জায়গা ভরাট করে গড়ে উঠা সকল স্থাপনাই ইতিমধ্যে আমরা উচ্ছেদ করেছি।  কার্যক্রম চলমান আছে।’

উল্লেখ্য,বহু বছর যাবত গড়ে উঠা এই মন্দিরের বিপুল পরিমান আয় ভাড়াভাগি নিয়ে দুটি পক্ষ তৈরী হয়েছে। একটি পাগলনাথ মন্দিরের সেবায়েত শিবু দাস মহন্ত গ্রুপ, অপরটি মন্দিরের সভাপতি শিবু দাস গ্রুপ। তারা উভয়ে মন্দিরের অর্থ আত্মসাতে জড়িত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের দ্বন্ধ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে।

এদিকে ধারাবাহিক দূর্ভোগের পর বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এবং সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় ইতি মধ্যেই বদলে যাচ্ছে ডিএনডি এলাকার চিত্র। দখল হয়ে যাওয়া প্রায় ৯৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। পানি নিষ্কাশনে পুরোদমে চলছে পাম্প স্টেশন বসানোর কাজও।

এই প্রকল্পের ফল পেতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা। চলতি বছরে কয়েকবার টানা বৃষ্টি হলেও আগের তুলনায় এখন জলাবদ্ধতা কম। যদিও এখনও শেষ হয়নি ডিএনডি প্রকল্পের কাজ। তবে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় অতিশীঘ্রই জলাবদ্ধাতার দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে ডিএনডি বাসি,এমনটাই বিশ্বাস করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ডিএনডি’র বাসির এই দুর্ভোগ শুরু হয় ১৯৬৮ সালে। তৎকালিন সময়ে এ অঞ্চলে (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাঁধ নির্মিত হয়। যা পরিচিত ডিএনডি বাঁধ নামে। গেল কয়েক দশকে খালের বিভিন্ন স্থান দখল করে স্ব-স্ব স্থানে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন শতশত অবৈধ স্থাপনা। খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সমস্যা ছিলো ডিএনডি বাঁধ এলাকায়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, এই ডিএনডি বাঁধ এলাকার ৯৪ কিলোমিটার খালের আদি রূপ ফিরিয়ে দিতে ৫৫৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০১৭ এর শেষের দিকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে, পাম্প স্টেশন-প্ল্যান্ট, খাল উদ্ধার, ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ অনেক কিছু। শিমরাইল ছাড়াও ফতুল্লা ও শ্যামপুরে চলছে আরও ৩টি পাম্পিং প্লান্ট নির্মাণের কাজ। এর সিংহভাগ কাজই প্রায় সমাপ্তির পথে। কাজের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২০ সাল।