গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড সংস্কারের দাবীতে এলজিআরডি দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ   ৮ জুলাই রবিবার গণ পদযাত্রা ও এলজিআরডি দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান কালে প্রাগঐতিহাসিক গ্রান্ড-ট্রাঙ্ক-রোড- এর হাজীগঞ্জ টু শিবু মার্কেট অংশের সংস্কারের দাবীতে গড়ে উঠা আন্দোলনের সংগঠক জননেতা কমরেড আবু হাসান টিপু বলেছেন, মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসনামলে তৈরি হয়েছিল একটি সড়ক, যা গঙ্গার মুখ থেকে সেই সাম্রাজ্যের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত পযর্ন্ত বিস্তৃত  ছিল। ১৫৪১ থেকে ১৫৪৫ সালের শাসনামলে শের শাহর তত্ত¡াবধানে সেই প্রাচীন সড়কটি সংস্কার ও স¤প্রসারণ করে ‘সড়ক এ আজম’ নামকরণ করেন।

শের শাহর তত্বাবধানে নির্মিত মোট আড়াই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সেই সময় উপমহাদেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করেছিল এবং প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হত। সড়কটি কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন জনপদ, নগর ও ব্যবসা কেন্দ্র। বৃটিশ শাসনামলে সৈন্য চলাচলের সুবিধা এবং ডাক বিভাগের উন্নতির উদ্দেশ্যে সড়কটির সংস্কার করে কলকাতা থেকে পেশোয়ার পযর্ন্ত স¤প্রসারিত করা হয়। এ সময়ই সড়কটির নাম দেওয়া হয় ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড’। বৃটিশ শাসনামলের আগে তৎকালীন শাসকেরা এ সড়কটির বিভিন্ন নাম যেমন- শাহ রাহে আজম, সড়ক এ আজম, বাদশাহি সড়ক ও উত্তর পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

আবু হাসান টিপু বলেন, সেই প্রাগৈতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড-এর হাজীগঞ্জ টু শিবু মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ দিন ধরেই খাদাখন্দে পরিণত হয়েছে। যার ফলে এ সড়কটি ভারি যানবাহনতো দুরের কথা রিক্সা চলাচলেও অযোগ্য হয়ে পরেছে এবং এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। এক পসলা বৃষ্টিতেই হাজীগঞ্জ টু শিবু মার্কেট পর্যন্ত সরকটিতে পানিতে থইথই করে, দুর থেকে দেখলে মনে হয় নদী। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার শিÿার্থ জীবনের ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা আরও বলেন, লাখো মানুষের যাতায়াতের এপথে প্রতিদিনই কোননা কোন দূর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিনই কোন না কোন পরিবহন খাদাখন্দে উল্টে গিয়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ নারী পুরুষ নির্বিশেষে। আর এ কারণেই একারণেই অবিলম্বে প্রাগৈতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড-এর হাজীগঞ্জ টু শিবু মার্কেট পর্যন্ত সংস্কার, সড়কটির এক পাশে পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মান ও পথচারী চলাচলের জন্য ফুতপাতসহ রাতের বেলা সড়কটিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হাজীগঞ্জ টু শিবু মার্কেট অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণের আজ প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করতে চাই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ থেকে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহন করলে কালের আবর্তে হারিয়ে যাবেনা এশিয়ার প্রাচীন ও দীর্ঘতম ‘সড়ক এ আজম’ বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড-এর (হাজীগঞ্জ টু শিবু মার্কেট পর্যন্ত) স্মৃতি চিহ্ন। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং লাখো মানুষের যাতায়াতের এ পথটি নির্বিগ্নে যান চলাচলসহ জনগণের ব্যবহার উপযোগী করার জন্য নেতৃবৃন্দ জোর দাবী করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শফিকুল ইসলাম আরজু, নজরুল ইসলাম ভেন্ডার, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব শহীদুল আলম নাননু, হাবিবুর রহমান আঙ্গুর, রাশিদা বেগম, রোকসানা বেগম, যুবনেতা নজরুল ইসলাম, যুবনেতা জাকির হোসেন জুয়েল ও খোকন রাজ, নূর মোহাম্মদ সুমন, আরিফুর রহমান আরিফ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুস সামাদ, কথাসাহিত্যিক বদিউল আলম, কাজী আশরাফুল জামান মাসুদ, আনোয়ার হোসেন, কাজী সাইদ আহমেদ, কাউসার, শাকিল, পারভেজ হোসেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ বাহার, মানজিল, জহির, বাবু, সালাউদ্দিন, রাসেল, কাজী হৃদয় প্রমূখ