আড়াইহাজারে টেটাবিদ্ধ রোজিনার মৃত্যু,এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে

সংবাদদাতা,আড়াইহাজারঃ   আড়াইহাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় রোজিনা (২৮) নামে আরও একজন মারা গেছেন। রোববার (০৮ জুলাই) তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি কালাপাহাড়িয়া মধ্যাচর এলাকার বাবুলের স্ত্রী।

এর আগে শনিবার (০৭ জুলাই) রাতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে সুজন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রোজিনাকে এ রাতেই ঢামেকে ভর্তি করানো হয়েছিলো। এছাড়াও সংঘর্ষে অন্যান্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহত সুজনের ভাই রবি মিয়া। মামলায় এলাকার মৃত হাজিরের ছেলে বাবুলকে প্রধান আসামী করে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ আজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫জনকে আসামী করা হয়।

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) এমএ হক। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মেঘনা নদীতে চাঁই পাতা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরেই দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বকান্দি সাহেব বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাবুলসহ তার লোকজন টেনেহেচড়ে বাড়িতে নিয়ে মারধর করে এবং চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপাতে থাকে। পরে চাচা কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য লিটনসহ আত্মীয়স্বজনরা তাকে বাঁচাতে গিয়েও রক্ষা করতে পারেনি। তারা সুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে রোজিনার নিকট আত্মীয় নাছিমা জানান, লিটনসহ অন্যরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হযরত আলী ও রোজিনাসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায়। এদের মধ্যে রোজিনার মৃত হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হযরত আলী।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সুজন নিহতের পর থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো এরমধ্যে রোববার রোজিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয় এলাকায়। পুরো এলাকা এখন থমথমেভাব বিরাজ করছে। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে এক পক্ষের গুলিতে সুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে রাতেই মারা যায়। এছাড়াও এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আরও ১৫ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে নিহত সুজনের ভাই শফিকুল (৩৮), গুলিবিদ্ধ হন হাসেন (৩৫), হযরত আলী (৬০), রোজিনা (৩০), আনোয়ার হোসেন (৩২), কবির হোসেন (২৭), নিহত রোজিনার স্বামী বাবুল (৩৫) সহ অন্তত ১৫জন।

এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হযরত আলী ও রোজিনাকে শনিবার রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।