নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো স্বপ্না !

ভোলা সংবাদদাতা : পড়ালেখায় বেশ মনযোগী, লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া। স্বপ্ন পূরণ করতে প্রতিকূলতাকে জয় করে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণীতে উঠে বাধা পড়ে স্বপ্নপূরণে। দারিদ্র্যতায় কারণে বাল্যবিয়ে দিতে চায় তার পরিবার।

বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। কিছুতে রাজি হয় না বিয়েতে। এক পর্যায়ে নিজের বিয়ে বন্ধ করে নতুন জীবনের সূচনা করে স্বপ্না।

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের দিনমজুর সেলিমের বড় মেয়ে স্বপ্না স্থানীয় খালেদা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিন দিন আগে নিজের বিয়ে বন্ধ করে স্বপ্না। নিজের বিয়ে বন্ধ করায় তাকে সংবর্ধনা দেয় বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, ভোলার নেতারা। শুধু তাই নয়, তার পড়ালেখার খরচ বহনের দায়িত্ব নেয় ওই কমিটি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন দিন পূর্বে একই এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে বিদেশ ফেরৎ আলামিনের সঙ্গে স্বপ্নার বিয়ের আয়োজন করা হয়। এক পর্যায়ে নিজের বিয়ে বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষকের শরণাপন্ন হয় স্বপ্না এবং বিয়ে বন্ধ করতে সমর্থ হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহে আলম হিরন বলেন, ‘‘স্বপ্না অনেক মেধাবী। সে পড়তে চায়। বিয়ের বিষয়টি আমাকে জানানোর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিয়ে বন্ধ করা হয়।’’

স্বপ্না আক্তার জানায়, সে পড়ালেখা করতে চায়, ডাক্তার হতে চায়।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, স্কুল ছাত্রী স্বপ্নাকে তার নানার জিম্মায় রাখা হয়েছে। তার বাবা-মাকেও সতর্ক করা হয়েছে। মেয়েটি এখন নিরাপদ।