ধলেশ্বরীর তীর দখল করা আহাম্মদ আলী বেপারীর ডকইয়ার্ড উচ্ছেদ

ফতুল্লা(আজকের নারায়নগঞ্জ): ধলেশ্বরী নদীর তীর ভরাট করে গড়ে তোলা আহাম্মদ আলী বেপারী ডকইয়ার্ডে উচ্ছেদ অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ। এসময় কমপক্ষে ১৫টি টিনশেড, ২টি ড্রেজার, ১৩টি বাঁশের পাইলিং উচ্ছেদসহ অর্থদন্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার(২০ জুন)  উচ্ছেদে চতুর্থ দিনে উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের চর সৈয়দপুর এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালিত হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন নদী কমিশনের সম্মানিত মেম্বার আলাউদ্দীন আহাম্মেদ, বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী, উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজ প্রমুখ।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চর সৈয়দপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব তীর ভরাট করে গড়ে ওঠা আহাম্মদ আলী বেপারী ডকইয়ার্ডে উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এসময় কমপক্ষে ১৫টি টিনশেড ঘর উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া ২টি ড্রেজারসহ ১৩টি বাঁশের পাইলিং উচ্ছেদ করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযান চলাকালে ডকইয়ার্ড মালিক আহাম্মদ আলী বেপারী নদী দখল ও ভরাটের বিষয়ে তার দোষ স্বীকার করেন। তিনি নির্মাণাধীন জাহাজটি সরিয়ে নিতে ২ মাসের সময় আবেদন করলে নদী কমিশনের মেম্বার আবেদন মঞ্জুর করেন। নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া নদীর দখলকৃত অংশ সরিয়ে নিতে সীমানা চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। যদি তিনি দখলকৃত অংশ সরিয়ে না নেন তাহলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, ধলেশ্বরী নদীতে গত ৪ দিনব্যাপী অভিযানে কয়েকটি ডকইয়ার্ড, পাকা ভবন, অসংখ্য ইটভাটার গাইড ওয়াল, বাঁশের পাইলিংসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসময় নদীর কমপক্ষে ১০ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়।তিনি আরো জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ঢাকার চারপাশে নদী দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা এবং মেঘনা নদীতেও পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদী দখলমুক্ত করা হবে।